বাংলাহান্ট ডেস্ক: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ (Islamic NATO) নামে একটি সম্ভাব্য ধর্মভিত্তিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরব আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা, পাকিস্তান পরমাণু ও সামরিক দক্ষতা এবং তুরস্ক আধুনিক অস্ত্র ও কৌশলগত সমর্থন দিয়ে এই জোট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রস্তাবিত জোট ন্যাটোর আদলে গঠিত হতে পারে, যেখানে একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্যগুলি সামরিক সহায়তা প্রদান করবে।
পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের জোটে তৈরি হতে চলেছে ইসলামিক ন্যাটো (Islamic NATO):
এই জল্পনার সূত্রপাত গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে। চুক্তিটিতে ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’ ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সরাসরি ন্যাটোর নীতির অনুরূপ। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের একটি বৃহত্তর সুন্নি-প্রধান সামরিক জোটের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর থেকেই তুরস্কের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যদিও দেশটি ইতিমধ্যেই ন্যাটোর একটি সক্রিয় সদস্য।

আরও পড়ুন: ফের খেল দেখাবে শীত? আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার ‘বুমেরাং’ দক্ষিণবঙ্গে: আগাম খবর
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পিছনে ইসলামিক বিশ্বে, বিশেষত সুন্নি-প্রধান রাষ্ট্রগুলির মধ্যে, কৌশলগত ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা কাজ করছে। বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশ সুন্নি হওয়ায়, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সুন্নি ব্লক গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে। এটি আঞ্চলিক শক্তি সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে, এই প্রস্তাবিত জোট ইতিমধ্যেই বিভাজন সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি শিয়া-প্রধান দেশগুলি যেমন ইরান, ইরাক ও বাহরাইনকে স্বাভাবিকভাবেই বাদ দেবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে সুন্নি-শিয়া বৈরিতা আরও তীব্র হওয়ার এবং নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমালোচকরা এই ধর্মভিত্তিক সামরিক জোটকে ‘মধ্যযুগীয় চিন্তা’র পুনরাবৃত্তি বলে আখ্যায়িত করছেন।
আরও পড়ুন: ভারতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে দেন অদ্ভুত যুক্তি! এবার বাংলাদেশেই ‘ট্রোল’ হচ্ছেন মোসাদ্দিক
সামগ্রিকভাবে, ‘ইসলামিক ন্যাটো’ এর ধারণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক কোনও আলোচনা বা চুক্তি এখনও হয়নি। এটি বাস্তবায়িত হলে গ্লোবাল নিরাপত্তা কাঠামো, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায়, মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে যে, এই জোট শান্তি ও স্থিতিশীলতা স্থাপন করবে নাকি বিদ্যমান সংঘাতকে আরও গভীর করবে।












