বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহু বছরের বন্ধুত্বের অন্যতম প্রতীক কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস (Maitree Express) কি আবারও যাত্রা শুরু করতে চলেছে? এই প্রশ্ন ঘিরেই দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের (India) কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর আবেদন জানিয়েছে। ঢাকা প্রশাসনের দাবি, দুই দেশের সম্পর্ক ও সামগ্রিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাই সীমান্ত পেরিয়ে আবারও রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার এখনই উপযুক্ত সময়। সূত্রের খবর, এই আবেদন পাওয়ার পরই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং রেল মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পূর্ব রেলকে সম্ভাব্য পরিষেবা চালুর জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
ঢাকা থেকে রেল মন্ত্রকের কাছে এল আবেদন মৈত্রী এক্সপ্রেস (Maitree Express) চালুর আবেদন:
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়েছিল। সীমান্ত পারাপারে একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়, মৈত্রী এক্সপ্রেসের পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি ভিসা পরিষেবাতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা-সহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে। এর মধ্যেই ঢাকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস (Maitree Express) ফের চালুর আবেদন দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কবে বাকিরা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? সময় বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে বিদেশ মন্ত্রক ও রেল মন্ত্রকের কাছে এই আবেদন পৌঁছেছে। এরপর রেল মন্ত্রকের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্ট শাখার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে একটি সরকারি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার আগের মতোই সপ্তাহে পাঁচ দিন এই ট্রেন চালুর অনুরোধ জানিয়েছে। সীমান্ত পারাপারের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে পরিষেবা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল হওয়ায় ভারত সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। রেল মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যৌথভাবে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং কাস্টমস ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ বর্ডার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফরেনার্স ডিভিশন এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স অ্যান্ড কাস্টমসও এই বিষয়ে নিজেদের মতামত দিচ্ছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দিক থেকে সবুজ সংকেত মিললেই রেল পরিষেবা পুনরায় চালু করার পথে আর বড় কোনও বাধা থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস (Maitree Express) শুধুমাত্র একটি ট্রেন নয়, বরং ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। এই ট্রেন পুনরায় চালু হলে দুই দেশের সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা মানুষ এবং পর্যটকদের জন্য যাতায়াত অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নতুন গতি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সব দফতরের অনুমোদন মিললে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কলকাতা থেকে ঢাকার পথে ছুটতে পারে বহু মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস।

















