বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের আবহে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সভাকে কেন্দ্র করে আরামবাগে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। সভার আগে তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের (Mitali Bag) উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কী ঘটেছে মিতালির (Mitali Bag) সঙ্গে ?
এদিন সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির মদতেই এই হামলা করেছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁকে দ্রুত আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর মিতালি বাগ নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। হাসপাতালে শুয়ে তিনি বলেন, “আমি সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। দেখুন কী ভাবে বিজেপি আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এখনও ভোট শুরু হয়নি। তার আগেই দেখুন এক জন মহিলার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে কী ভাবে। আমার শরীরে কাচ ফুটে রয়েছে।” তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ।
এই ঘটনার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরামবাগে ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের উপর হামলা চালায় বিজেপি। আমাদের সাংসদকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে।” জানা গিয়েছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবেই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের দলের সাংসদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গে এসে নারী শক্তির জয়গান করছেন। কিন্তু তাঁর দলের কর্মীরাই আমাদের মহিলা সাংসদের উপর হামলা চালিয়েছেন।”

আরও পড়ুন : বঙ্গে বিজেপির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোদী, বললেন বড় কথা..
যদিও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে বিজেপি। গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার জানিয়েছেন, তাঁদের দল শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালাচ্ছিল। বরং তাঁদের উপরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরামবাগে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের আগে এই ধরনের সহিংসতার অভিযোগ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে, এই ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটাই দেখার।












