RG Kar দুর্নীতি মামলায় বড় মোড়! আখতার আলির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

Published on:

Published on:

Arrest Warrant Issued Against Former RG Kar Deputy Superintendent Akhtar Ali
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি কর (RG Kar) মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়। হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল আদালত। নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সিবিআই আদালত। সিবিআইয়ের দাবি, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এর আগে বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে আখতার আলির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আদালতে সিবিআই স্পষ্ট জানায়, তদন্তের স্বার্থে আখতার আলিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আরজি কর (RG Kar) হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে আখতার আলির সরাসরি যোগ রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাই কোর্ট আখতার আলির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। সেগুলি হল –

  • আবেদনকারী আখতার আলি তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করেছেন।
  • তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
  • অভিযোগ, তিনি বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা নিয়েছিলেন।

এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সন্দীপ ঘোষের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের মতে, আখতার আলি প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত নন। এই সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র বিবেচনা করেই আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।

সিবিআইয়ের আইনজীবী অমাজিৎ দে আদালতে জানান, “সিবিআইয়ের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে আখতার আলি সরাসরি যুক্ত। সেই কারণেই বিচারপতি তাঁর আগাম জামিনের আবেদন বাতিল করেছেন।” সিবিআইয়ের চার্জশিটে আখতার আলির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেই তিনি আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।

ঘটনার পটভূমি (RG Kar)

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর (RG Kar) হাসপাতালের চারতলার সেমিনার রুম থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরে জানা যায়, কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পর আখতার আলি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন, আরজি কর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক দুর্নীতির চক্র চলছিল। সেই সময় খুন ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত করছিল সিবিআই। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ তখন সিবিআইকে নির্দেশ দেন, ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে।

RG Kar Doctor’s Unnatural Death Sparks Shock and Mystery Across Bengal

আরও পড়ুনঃ বাজেটের পর রেপো রেট নিয়ে বড় ঘোষণা RBI-র, আপনার EMI কি বাড়ল? জানুন…

দীর্ঘ তদন্তের পর কয়েক মাস আগে সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে, যেখানে আখতার আলির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে যে, আরজি কর (RG Kar) হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। সিবিআইয়ের চার্জশিট এবং তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি আখতার আলিও এই দুর্নীতি কাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।