বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার দিনেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। সভা শুরুর ঠিক আগে কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) যোগ দিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর স্ত্রী অরুণা মার্ডি। তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর যোগদান ঘিরে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানাল শাসক শিবির। মালদার রাজনীতিতে এই দলবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অরুণা মার্ডির রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরলেন ব্রাত্য বসু
তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগদান পর্বে অরুণা মার্ডির রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি জানান, অরুণা মার্ডি একসময় সিপিএম করতেন এবং গণতান্ত্রিক মহিলা মোর্চার নেত্রী ছিলেন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় খগেন মুর্মু বিধায়ক থাকাকালীন এবং পরবর্তীতে সাংসদ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় তাঁর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন অরুণা মার্ডি। বিজেপির একাধিক কমিটির প্রধান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। ব্রাত্য বসু আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি অনুসারেই অরুণা মার্ডি আজ তৃণমূল কংগ্রেসের পরিবারে যোগ দিলেন।
আদিবাসী ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ বীরবাহার
সাংবাদিক বৈঠকে অরুণা মার্ডিকে পাশে বসিয়ে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বীরবাহা হাঁসদা। আদিবাসী আবেগকে সামনে রেখে তিনি বলেন, যাঁদের শরীরে সত্যিকারের আদিবাসীর রক্ত রয়েছে, তাঁরা কখনও বিজেপি করতে পারেন না। আদিবাসীদের বাঁচতে হলে বিজেপিকে ছাড়তে হবে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আদিবাসীদের ধর্ম পালনের স্বীকৃতি দেয় না।
অসমের উচ্ছেদ প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ
অসমে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বীরবাহা হাঁসদা অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত অসমে ২৯টি আদিবাসী পরিবারের ঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আদিবাসী পরিবারগুলিকে খোলা আকাশের নীচে থাকতে বাধ্য করা হলেও বিজেপির কোনও নেতা এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।
‘বিজেপিতে কাজের সুযোগ পাইনি’, তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগ দিয়ে অভিযোগ অরুণা মার্ডির
তৃণমূলে (Trinamool Congress) যোগ দিয়ে অরুণা মার্ডি বলেন, তিনি কাজের মানুষ এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান। কিন্তু বিজেপিতে থাকাকালীন তিনি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে জানান। দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও বিজেপিতে তিনি ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে কটাক্ষ
এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গও তোলেন বীরবাহা হাঁসদা। তাঁর অভিযোগ, একজন আদিবাসী মহিলাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে বিজেপি বড় বড় কথা বললেও সংসদ ভবন উদ্বোধনের সময় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বা অন্ধকারে রাখা হয়েছে। আদিবাসী সমাজ এই বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ বনাম তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া কর্মীদের প্রসঙ্গও ওঠে। তৃণমূলের (Trinamool Congress) তরফে জানানো হয়, তাঁদের সোশাল মিডিয়া কর্মীরা কোনও ট্রোলার নন। তাঁরা দলের আদর্শ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরতেই স্বেচ্ছায় কাজ করেন।

আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুর থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ বিজেপি সভাপতির, কী কী বললেন নিতিন নবীন?
রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদার রাজনীতিতে খগেন মুর্মুর স্ত্রীর এই দলবদল বিজেপির কাছে নিঃসন্দেহে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। বিশেষ করে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার দিনেই এই যোগদান তৃণমূলের (Trinamool Congress)ঔ জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।












