বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অ-সংগঠিত খাতের কর্মীদের অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে অটল পেনশন যোজনা (Atal Pension Yojana) ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সম্প্রসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে অবসরপ্রাপ্ত ও অবসরপ্রস্তুত লক্ষ লক্ষ বেসরকারি কর্মী বড় স্বস্তি পেলেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে অটল পেনশন যোজনাকে (Atal Pension Yojana) আর্থিকভাবে টেকসই করে তুলতে আউটরিচ কর্মসূচি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নয়নমূলক কাজ এবং গ্যাপ ফান্ডিংয়ের জন্য সরকারি তহবিলও বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অ-সংগঠিত খাতের কর্মীদের বৃদ্ধ বয়সে নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা আরও মজবুত করা হবে।
এই প্রকল্পের (Atal Pension Yojana) আওতায় থাকা সদস্যরা কী সুবিধা পান?
এই প্রকল্পের (Atal Pension Yojana) আওতায় কোনও সদস্য ৬০ বছর বয়সে পৌঁছালে মাসে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পান। এই পেনশন আজীবনের জন্য প্রযোজ্য। সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী পেনশনের সুবিধা পান। দু’জনেরই মৃত্যু হলে জমা অর্থ মনোনীত ব্যক্তিকে দেওয়া হয়। নরেন্দ্র মোদী-র সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা প্রচার এবং বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক অ-সংগঠিত খাতের কর্মী এই পেনশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
২০১৫ সালে চালু হওয়া অটল পেনশন যোজনার (Atal Pension Yojana) মূল লক্ষ্যই হল যাঁরা অবসর নেওয়ার পর কোনও পেনশন বা নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পান না, তাঁদের জন্য নিশ্চিত মাসিক আয়ের ব্যবস্থা করা। ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি যে কোনও ব্যক্তি এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারেন। সদস্যের বয়স এবং নির্বাচিত পেনশন স্ল্যাব অনুযায়ী মাসিক অবদানের অঙ্ক নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুনঃ সবুজ নেট, জল ছেটানো বাধ্যতামূলক, শহরের দূষণ রুখতে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ২০ বছর বয়সে এই প্রকল্পে (Atal Pension Yojana) যোগ দিয়ে মাসিক ১,০০০ টাকা পেনশন বেছে নেন, তবে তাঁকে প্রতি মাসে মাত্র ৪২ টাকা জমা দিতে হয়। কম বয়সে প্রকল্পে যোগ দিলে কম বিনিয়োগে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। এই কারণেই বেসরকারি ও অ-সংগঠিত খাতের কর্মীদের কাছে অটল পেনশন যোজনা একটি কার্যকর ও ভরসাযোগ্য অবসর পরিকল্পনার বিকল্প হিসেবে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।












