বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) চুরির অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে অডিট সংক্রান্ত নতুন তথ্য। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের দাবি, মন্দিরের জন্য জমা পড়া প্রায় ৩৩০০ কোটি টাকার অনুদানের হিসেব অডিটে মেলেনি—এমন কোনও বিষয় পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অনুদান হিসেবে আসা পুরো অর্থের হিসেবই নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে নগদ টাকা সামলানোর সময় কিছু অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, মেশিনে টাকা গোনার আগের ধাপে নগদ অর্থ আলাদা করার সময়ই চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চললেও এর সঙ্গে বড় ধরণের আর্থিক দুর্নীতির যোগ এখনও মেলেনি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) অনুদানে দুর্নীতি নিয়ে অডিট রিপোর্টে উঠে এল বড় তথ্য:
অডিটর সংস্থা শংকর আইয়ার অ্যান্ড কোম্পানির হিসেব অনুযায়ী, রাম মন্দির (Ayodhya Ram Temple) নির্মাণের কাজে খরচ হওয়া প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা এবং জমি কেনার জন্য ব্যয় করা প্রায় ৪০০ কোটি টাকার হিসেবও সঠিক রয়েছে। অনুদানের অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথিপত্রও অডিটের আওতায় এসেছে। ফলে মন্দির নির্মাণ ও জমি কেনার মতো বড় খরচের ক্ষেত্রেও হিসেবের অসঙ্গতি ধরা পড়েনি বলেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে নগদ টাকা সরানোর ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ওই চুরির সঙ্গে রাম মন্দির কমিটির সরাসরি কোনও যোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বার্ষিক ৫ শতাংশ বাড়বে বেতন! সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় ঘোষণা, নয়া বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন
তবে গোটা বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। রাম মন্দির সংক্রান্ত নগদ চুরির অভিযোগের তদন্ত করছে সুপ্রিম কোর্টের নজরাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। তাই অডিটে অনুদানের হিসেব মিলে গেলেও নগদ অর্থ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সম্পূর্ণ সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে কি না, সেটিও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। ফলে অডিট রিপোর্ট একদিকে যেমন অনুদানের হিসেব নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে নগদ লেনদেনের অভিযোগের তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর মধ্যেই অযোধ্যার রাম মন্দিরে দর্শনের নিয়মেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন সাধারণ ভক্তরা লাইনে দাঁড়িয়ে রামলালার দর্শন করতে পারলেও মন্দিরের দোতলায় থাকা রাম দরবারে যাওয়ার জন্য বিশেষ পাসের প্রয়োজন হত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক এই পাস দেওয়া হত এবং তা শেষ হয়ে গেলে অন্য দর্শনার্থীদের আর সুযোগ থাকত না। অভিযোগ উঠেছিল, বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ওই পাসের একটি অংশ মন্দিরের কয়েকজন কর্মী বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে আর্থিক সুবিধা নিতেন। যদিও এই অভিযোগের সঙ্গে অডিটে মেলা অনুদানের হিসেবের কোনও সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবু বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল
আরও পড়ুন: ‘যা বলেছে তা পালন না করতে পারলে জেলে..,’ DA মামলার শুনানিতে ঠিক কী হল? জানালেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন
এই পরিস্থিতিতে ভক্তদের জন্য দর্শন আরও সহজ করতে বিশেষ পাসের ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাম মন্দির (Ayodhya Ram Temple) কর্তৃপক্ষ। ট্রাস্টের বক্তব্য, মন্দিরে আসা আরও বেশি মানুষ যাতে সহজে দর্শনের সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে এখন রামলালার দর্শনের পাশাপাশি রাম দরবারে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আগের মতো সীমিত পাসের উপর নির্ভর করতে হবে না। একদিকে ৩৩০০ কোটি টাকার অনুদানের হিসেব অডিটে মিলে যাওয়ার দাবি, অন্যদিকে নগদ চুরির অভিযোগের তদন্ত এবং দর্শন ব্যবস্থায় পরিবর্তন, সব মিলিয়ে রাম মন্দিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।













