বিতর্কের মাঝে ইউ-টার্ন, বাংলাদেশে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কমিশন

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করল বাংলাদেশের (Bangladesh) নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারেরা এখন মোবাইল নিয়েই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে গোপন ভোটকক্ষে কোনওভাবেই ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে (Bangladesh) ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কমিশন

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে রবিবার নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, ভোটকেন্দ্রের ভিতরে তো বটেই, কেন্দ্রের ৩৬৫ মিটার বা প্রায় ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। এই ঘোষণার পরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং নির্দেশিকাটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আরও পড়ুন: কয়লা পাচার মামলায় বড় ধাক্কা! লালার ঘনিষ্ঠ দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার ED-র

বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচন কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়। জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলামও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এমন নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামও নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কমিশনের দফতর ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতেই সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্দেশিকা ঘিরে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, কমিশন যে বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিল, তা সঠিকভাবে পৌঁছায়নি বলেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই নির্দেশিকাটি সংশোধন করে নতুনভাবে জানানো হচ্ছে যে ভোটার, প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টরা মোবাইল সঙ্গে রাখতে পারবেন।

Bangladesh EC lifts mobile ban at polling stations

আরও পড়ুন: সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে সোনার দামে কিছুটা পতন! আজ গহনা কিনলে কত খরচ হবে জানেন?

তবে কমিশন একই সঙ্গে সতর্ক করেছে, ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে ভোটকক্ষের ভিতরে কোনও ধরনের ছবি তোলা বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তৈরি হওয়া বিতর্ক অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কমিশন।