বাংলা হান্ট ডেস্ক:হওয়ার কথা ছিল মিষ্টি হাব, কিন্তু হয়ে উঠেছে অসামাজিক কাজের জায়গা। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বর্ধমানে ৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অনাময় হাসপাতালের কাছে বাম চাঁদাইপুর মৌজায় মিষ্টি হাবের (Bardhaman Misti Hub) উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের সেই প্রকল্প চালু হয়নি আজও। কেন বন্ধ হয়ে আছে? কী বলছে এখানকার স্থানীয় লোকেরা, জেনে নেব।
আট বছরেও চালু হয়নি বর্ধমানের মিষ্টি হাব (Bardhaman Misti Hub)
আট বছর হয়ে যাওয়ার পরও মিষ্টি হাব চালু হয়নি। বর্ধমান সীতাভোগ মিহিদানা ওয়েলফেয়ার ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন বেশ কয়েকবার এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছে। কিন্তু সমস্যার জট কাটেনি। সংস্থার সম্পাদক প্রমোদ সিংহের অভিযোগ ‘একেবারে অপরিকল্পিতভাবে মিষ্টি হাব তৈরি করা হয়েছে। অথচ শক্তিগড়ের আমড়ার কাছে, পথসাথীর পিছনের জমিতে মিষ্টি হাব তৈরীর জন্য ভূমি পূজোও হয়ে গিয়েছিল। আদর্শ জায়গা ছিল। আমরা বহু ব্যবসায়ী কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে কার্যত অপমানিত হয়ে ফিরে এসেছি।’
২০১৭ সালের পর ২০১৯ এবং ২০২২, দুই বার চেষ্টা করা হয়েছিল জেলা প্রশাসনের তরফে এই প্রকল্পটিকে চালু করার। কিন্তু চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার মুখ থুবড়ে পড়ে প্রকল্পটি। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয় এই মিষ্টি হাব, যার দুটি তলায় ৩০ টি স্টল করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয় সমস্ত প্রচেষ্টা। এরপরে আর কোনও চেষ্টা হয়নি। এই মিষ্টি হাব মূলত অসামাজিক কাজের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে এলাকায়।
আরও পড়ুন:শূন্যের চেয়েও কম নিট পিজির কাট অফ! বিরোধিতা চিকিৎসক মহলের, কী বলল সুপ্রিম কোর্ট
বর্তমানে মিষ্টি হাবের ভিতরে ঢুকলে বিভিন্ন জেলার নানা মিষ্টির ছবি, বোর্ড সহ টাঙানো রয়েছে দেখা যাবে। কিন্তু সেগুলোতে রয়েছে অযত্নের ছাপ, ঝুল পড়ে গেছে। ঝাড়বাতি গুলি ধুলোয় ঢেকে গেছে। এখানে যে সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছেন পাহারার দায়িত্বে, তিনি বললেন ‘এখন আমরা থাকার পর বাইরের লোকেরা আর ঢুকতে পারে না। আমাদেরই খারাপ লাগে এত বিশাল একটা সম্পত্তি কীভাবে অনাদরে নষ্ট হচ্ছে’।
আরও পড়ুন:SIR জট কাটাতে আজ আবার বৈঠক, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসছেন সিইও

এই এলাকার বিধায়ক নিশীথ মালিককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন ‘কোথাও একটা পরিকল্পনার অভাব তো ছিলই। আমরা যে জায়গায় মিষ্টি হাব করার উদ্যোগ প্রথমে নিয়েছিলাম, সেখানে হলে এখন অন্য রকমের হয়ে যেত এই মিষ্টি হাব। তবে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে নিশ্চয়ই কিছু ভাবছেন’। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা সাগর ঘোষ জানালেন সিভিক ভলেন্টিয়াররা আসার পর তারা পাড়ায় টিকতে পারছেন। আসলে অসামাজিক কর্মকান্ড এখানে বাড়ায়, এখানকার স্থানীয় লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে শক্তিগড় থানায় অভিযোগ জানায়। সেখান থেকেই কয়েক মাস আগে ছজন সিভিক ভলেন্টিয়ার কে এখানে পাহারার দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে।












