বাংলা হান্ট ডেস্ক:গত জানুয়ারি মাসে নিট পিজি (NEET PG) নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সোমবার তার শুনানি হল, বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি আলোক আর্ধের ডিভিশন বেঞ্চ-এ। সেখানে এত কম নম্বরে নিট পিজিতে পড়ুয়া ভর্তি নিয়ে কেন্দ্রের ব্যাখ্যা চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
নিট পিজিতে (NEET PG) কাট অফ শূন্যের নিচে
জানা যাচ্ছে ২০২৬ এর জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মেডিক্যালে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ভর্তির কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হয়। সেখানে দেখা যায় দ্বিতীয় রাউন্ড শেষের পর ৯৬২১ টি আসন ফাঁকা রয়েছে। তাতে কাট অফের নম্বর কমিয়ে ৮০০-র মধ্যে ১০৩ করা হয় এবং যারা সংরক্ষিত শ্রেণীর পড়ুয়া, তাদের ক্ষেত্রে কাট অফ স্কোর ৪০ থেকে কমিয়ে ০ পারসেন্টাইল এবং অসংরক্ষিত ও আর্থিক পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কাট অফ ৫০ থেকে কমিয়ে ৭ পারসেন্টাইল করা হয়।
এতে দেখা যাচ্ছে যারা সংরক্ষিত শ্রেণীভুক্ত তারা সর্বনিম্ন -৪০ কাট অফ থাকলেও ভর্তি হতে পারবেন। আর এখান থেকেই বিরোধিতার সূত্রপাত। চিকিৎসকরা বিরোধিতা করেছেন। তাদের অভিযোগ কম নম্বর পেয়ে যারা বিশেষ বিষয়ের পাঠ গ্রহণ করবেন, তারা কতটা দক্ষ এবং মেধাবী, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এক্ষেত্রে রোগী পরিষেবা ব্যাহত হবে আর চিকিৎসকদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠবে।
আরও পড়ুন:বাদ গেল ৯৭ লক্ষেরও বেশি নাম! SIR-এর পর্ব মিটতেই এই রাজ্যে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই জানুয়ারি মাসে ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস অর্থাৎ এনবিইএমএস-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানি ছিল সোমবার। তাতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘শিক্ষার মানদন্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে, এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। কেন এত কম নম্বরে ভর্তি নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হবে’।
আরও পড়ুন:SIR জট কাটাতে আজ আবার বৈঠক, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসছেন সিইও

এই মামলার পরবর্তী শুনানীর তারিখ পড়েছে ২৪ মার্চ। কেন্দ্রের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসেটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি, এদিন হলফনামা দেন আদালতে। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস-এর দাবি চিকিৎসকরাই নিট পিজি দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের এমবিবিএস ডিগ্রী এবং ইন্টার্নশিপের এক বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। পরীক্ষায় পাশ করার পর প্রার্থীর পছন্দ আর মেধার ভিত্তিতে সীমিত আসনে ভর্তি নেওয়া হয়। তাই যদি সেখানে নম্বর কমিয়েও দেওয়া হয়, তাহলেও তা শিক্ষার মানদন্ডকে উপেক্ষা করছে না। এই বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায় যারা ভর্তির আবেদন করছেন তারা চিকিৎসক হলেও এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত তা অবশ্যই বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।












