বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০১২ সালের ৫ জুলাই। এদিনই খুন হয়েছিলেন প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস (Barun Biswas)। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ১৪ বছর। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের এই হত্যাকাণ্ডের (Barun Biswas Murder Case) ফাইল খুলেছে। এবার সেই মামলায় সাক্ষী দিলেন বরুণের বাবা জগদীশ বিশ্বাস। বর্তমানে তাঁর বয়স ৯২ বছর।
কাঁদতে কাঁদতে প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম নিলেন বরুণের বাবা | (Barun Biswas Murder Case)
সোমবার বনগাঁ ট্র্যাক-১ আদালতে বিচারক দুর্গাশঙ্কর রানার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। দুই সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে আদালতে হাজির হন বরুণের বাবা। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার ৩৮ তম সাক্ষী হিসেবে রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম নেন জগদীশবাবু। তাঁর অভিযোগ, ওই মন্ত্রী টাকা দিয়ে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে তাঁর ছোটছেলেকে খুন করান।
আরও পড়ুনঃ চাল-গম শুধু নয়, রেশন দোকানে এবার মিলবে গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ? মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হল চিঠি
কে সেই মন্ত্রী? সেটাও জানা গিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, এদিন সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (বালু) নাম নেন বরুণের বাবা। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কেঁদেও ফেলেন তিনি। জগদীশবাবুর অভিযোগ, ছেলের হত্যার পর তৎকালীন পুলিশ আধিকারিক বা সিআইডি কেউ তাঁকে সহযোগিতা করেননি। এমনকি তাঁকে নিজের কথাটুকুও বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এই মামলায় সরকারি আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও আসামিপক্ষের আইনজীবী নির্মাল্য সাহা জানান, এদিন সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম নিয়েছেন বরুণের বাবা। সাক্ষ্য ও শুনানির ভিত্তিতে এই মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকে এগোবে।
এদিন আদালত থেকে বেরনোর পর বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, “আজ বাবার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ওনার বয়স ৯০ বছর। যতখানি মনে আছে, উনি বলেছেন। আমাদের অভিযোগ সবার জানা। বরুণের খুনি কারা সেটা সকলে জানেন…এই কাজ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নেতৃত্বে হয়েছিল।“

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, “বিচারক সবটা মন দিয়ে শুনেছেন। উনি (বরুণের বাবা) মন্ত্রীর নাম নিয়েছেন। এই প্রথমবার। ইতিপূর্বে এই কথাগুলো সিআইডিকে বলা হয়নি।“ এদিন আসামিদের হাজির করানো হয়েছিল বলে জানান আইনজীবী নির্মাল্য। সাজাপ্রাপ্ত তাপস বিশ্বাস ও সুশান্ত চৌধুরীর কারাবাসেই মৃত্যু হয়েছে।
মিত্র ইনস্টিটিউশনের বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস সুটিয়ায় গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরব থাকতেন তিনি। ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন বরুণ। রাজ্যে পালাবদলের পর এই খুনের বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছিল বরুণের পরিবার। তাঁর সঙ্গে দেখাও করেন। ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের ফাইল খুলেছে। এবার সেই মামলায় সাক্ষী দিলেন বরুণের নবতিপর বাবা।













