বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিল্প সংক্রান্ত উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে ভারত উদ্যোগীক বিকাশ যোজনা তথা BHAVYA প্রকল্প (BHAVYA Scheme) অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পে ৩৩,৬৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে এবং দেশজুড়ে ১০০ টি প্লাগ-এন্ড-প্লে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হবে। একটি সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই প্রকল্পটি ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
দেশের ছবি বদলাবে মোদী সরকারের BHAVYA স্কিম (BHAVYA Scheme):
স্বপ্ন পূরণের একটি প্রকল্প: ইতিমধ্যেই DPIIT (ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড অফ ইন্ডিয়া)-র সচিব অমরদীপ সিং ভাটিয়া এই প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণ সেক্টর নিউট্রাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ এটি কোনও একটি নির্দিষ্ট সেক্টরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এটি রাজ্য এবং বেসরকারি সেক্টরের অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও জানান যে, এই প্রকল্পের আওতায় মূল পরিকাঠামো থেকে শুরু করে ভ্যালু অ্যাডেড সুযোগ-সুবিধা এবং আবাসনের মতো সামাজিক পরিকাঠামোর জন্য ফান্ডিং করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫০ টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হবে।
Prime Minister Narendra Modi tweets, “A landmark step towards accelerating India’s industrial growth! The Union Cabinet has approved Bharat Audyogik Vikas Yojna (BHAVYA). This will enable the development of 100 plug-and-play industrial parks, boosting manufacturing, investment… pic.twitter.com/laYCh0phh8
— IANS (@ians_india) March 18, 2026
প্লাগ-এন্ড-প্লে কী: BHAVYA প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ব্যবসা করার সহজ নতুন মডেল। রাজ্য সরকারগুলি সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম পূর্ব অনুমোদিত ছাড়পত্র এবং বিনিয়োগকারী-বান্ধব সংস্কারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করবে। এক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১,০০০ একর পর্যন্ত বিস্তৃত পার্ক নির্মাণ করা হবে। যেখানে তৈরি করা জমি, বিদ্যুৎ, জল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সুবিধা থাকবে। অর্থাৎ, শিল্পের সূচনা থেকে উৎপাদনে বিলম্বিত হবে না। এদিকে,নাপ্রতি একর জমিতে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
* মূল পরিকাঠামো (রাস্তা, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা, জল ব্যবস্থাপনা, কমন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট)
* সামাজিক পরিকাঠামো (শ্রমিকদের আবাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা)
* অতিরিক্ত সুবিধা (কারখানার তৈরি শেড, পরীক্ষাগার, গুদাম)
এছাড়াও, এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত এক্সটার্নাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কানেক্টিভিটির জন্য ফান্ডিং করা হবে। পার্ক নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি হবে চ্যালেঞ্জ মোডের মাধ্যমে। যার অর্থ হল কেবল সর্বোৎকৃষ্ট, সবচেয়ে সংস্কারমুখী এবং বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত প্রস্তাবনাগুলিই পরবর্তী ধাপে যাবে।
এদিকে, এই পার্কগুলি শুধু কারখানা হবে না, বরং ফিউচারিস্টিক ইকোসিস্টেম হিসেবে বিবেচিত হবে। যেখানে মাল্টিমডেল কানেক্টিভিটি থেকে শুরু করে ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি করিডর সহ নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের মত একাধিক বিষয় নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: হরমুজ সঙ্কটের আবহে স্বস্তি পেল ভারত! তেলের জন্য নতুন রুট খুলে দিল সৌদি আরব
কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ, লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান: সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পটি সারা দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত হবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ এবং পরিষেবা খাতে লক্ষ লক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ক্লাস্টার উন্নয়নের মাধ্যমে সাপ্লাই চেন শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, উৎপাদন ইউনিট,MSME, স্টার্টআপ এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা এর প্রধান সুবিধাভোগী হবে। শ্রমিক, লজিস্টিক কোম্পানি, পরিষেবা খাত এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ও কর্মসংস্থান পাবে।
আরও পড়ুন: IPL ২০২৬-এর আগে সাংবাদিকের সঙ্গে বিতর্কে জড়ালেন KKR-এর তারকা প্লেয়ার! অ্যাকশন নেবে বোর্ড?
ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড তথা NICDC এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। DPIIT-র অধীনে, NICDC ইতোমধ্যেই ১৩ টি রাজ্যে ২০ টি প্রকল্প পরিচালনা করছে। যার সম্পূর্ণ মডেলটি প্লাগ-এন্ড-প্লে-এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। যেখানে জমি, সুযোগ-সুবিধা, অনুমোদন—সবকিছু আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। যাতে শিল্প সংক্রান্ত কোনও বিলম্ব ছাড়াই শুরু হতে পারে। জানিয়ে রাখি যে, BHAVYA প্রকল্পটি শুধু পার্ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবেও বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে MSME এবং স্টার্টআপগুলি একটি তৈরি প্ল্যাটফর্ম পাবে এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা ভারতকে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহিত হবে। এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ভিশনকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।












