বাংলা হান্ট ডেস্ক : আরজি কর কাণ্ড (RG Kar) ঘিরে আইনি লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠছে। নির্যাতিতার মায়ের দায়ের করা মামলায় নাম উঠে আসার পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
আরজি কর মামলায় (RG Kar) হাইকোর্টের দ্বারস্থ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়
মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই বিষয়ে আবেদন জানান তিনি। আরজি কর মামলায় নতুন করে তদন্ত এবং কয়েক জনের গ্রেপ্তারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার মা। তাঁর আবেদনে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পাশাপাশি সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র নামও উল্লেখ করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এবার আইনি সুরক্ষা চাইতে হাইকোর্টে গেলেন সঞ্জীব।
এ দিন আদালতে সঞ্জীবের আইনজীবী জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁর মক্কেলকে এই মামলায় টানা হয়েছে। তিনি বিচারপতির সামনে দাবি করেন, “তাঁকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।” শুধু তাই নয়, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। পুরো বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী। আদালত আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতাল থেকে দেহ সরিয়ে নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়েছিল, যাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনার পিছনে পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শিয়ালদহ আদালতে নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আবেদন জানানো হয়।

আরও পড়ুন : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ! তোলপাড় রাজ্য
স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্যাতিতার বাড়ির কাছাকাছি এলাকাতেই থাকেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। এলাকায় অনেকেই তাঁকে ‘কাকু’ নামে ডাকেন। নির্যাতিতার দেহ যে পানিহাটি শ্মশানে দাহ করা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত কিছু নথিতে তাঁর স্বাক্ষর ছিল বলেও দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক মহলেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, একসময় সিপিএমের কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। পরে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন সঞ্জীব। আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা আইনি পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।













