শুধু ট্রাম্প নয়! এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের গোটা পরিবারকে কফিনবন্দি করার ‘প্রতিজ্ঞা’ ইরানের

Published on:

Published on:

Follow

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তেহরানের (Tehran) রাস্তায় প্রদর্শিত একাধিক রাজনৈতিক পোস্টার ও বিলবোর্ড। কয়েক দিন আগে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো একটি বিশাল বিলবোর্ড ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে নতুন একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে। মধ্য তেহরানের একটি ব্যস্ত এলাকায় টাঙানো ওই পোস্টারে জ্বলন্ত হোয়াইট হাউসের পটভূমিতে ট্রাম্পের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দেখানো হয়েছে। পোস্টারটিতে ফার্সি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘রক্তের বদলা রক্ত’— যা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ট্রাম্প সহ তাঁর গোটা পরিবারের কফিনবন্দি বিলবোর্ড টাঙানো হল তেহরানে (Tehran)

নতুন পোস্টারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং পাঁচ সন্তান— ইভাঙ্কা, ডন জুনিয়র, এরিক, টিফানি ও ব্যারন ট্রাম্পকেও দেখানো হয়েছে। এই ধরনের প্রচারসামগ্রী প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে তেহরানের এঙ্গেলাব স্কোয়ারে প্রদর্শিত আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। সেই বিলবোর্ডে তাঁর চোখ বন্ধ, পরনে কালো কোট ও লাল টাই, আর সঙ্গে ছিল তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকিসূচক একটি বার্তা। যদিও এই ধরনের পোস্টার বা বার্তা সরকারি নীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন: পালানোর চেষ্টা করলেই কুমিরের মুখোমুখি! প্যালেস্টাইনি বন্দিদের ‘বাগে আনতে’ বড় পরিকল্পনা ইজরায়েলের

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সম্প্রতি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি এবং তিনি নিজেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প বলেন, তেহরানের (Tehran) তথাকথিত ‘হিটলিস্টে’ তাঁর নাম শীর্ষে রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। যদিও এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি যাচাই সামনে আসেনি। তবুও তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এরই মধ্যে আরেকটি বিষয় নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প যে বিমানে তুরস্কে গিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনে ফেরার সময় তিনি সেই একই বিমানে ফেরেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। উড়ান পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ফলে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

Billboards depicting Trump and his entire family in coffins have been put up in Tehran.

আরও পড়ুন: ভারতে আচমকাই কমছে স্মার্টফোনের বিক্রি! নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে পোস্টার বা বিলবোর্ড ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়, তবে রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁর পরিবারকে কেন্দ্র করে এমন প্রতীকী উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে (Tehran)।