ক্লাসে মন নেই কেন? উপস্থিতি ঘাটতিতে কড়া হচ্ছে নিয়ম

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভবিষ্যতে যাঁরা প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করবেন, তাঁদের অনেকেই এখন নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকছেন না এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। খাতায় নাম থাকলেও ক্লাসঘরে দেখা যাচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজনকে। এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য। হাজিরা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি (Biometric Attendance) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বায়োমেট্রিক উপস্থিতি (Biometric Attendance) বাধ্যতামূলক

রাজ্যের স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (এসসিইআরটি) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ডিএলএড কোর্সে পড়ুয়াদের উপস্থিতি এ বার থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (Biometric Attendance) নথিভুক্ত করা হবে। কলেজগুলির অধ্যক্ষ এবং ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই নির্দেশ গুরুত্ব সহকারে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকলে আইন মেনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে পরীক্ষায় বসতেও দেওয়া হবে না, এমন হুঁশিয়ারিও রয়েছে সেখানে।

২১টি কলেজ, হাজারের বেশি পড়ুয়া

এসসিইআরটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা রাজ্যে সরকার ও সরকারপোষিত মোট ২১টি কলেজে ডিএলএড কোর্স চালু রয়েছে। প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতার জন্য এই ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। পার্ট-ওয়ান এবং পার্ট-টু মিলিয়ে দু’হাজারেরও বেশি পড়ুয়া বর্তমানে এই কোর্সে রয়েছেন। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম। সেই কারণেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

৮০ শতাংশ হাজিরা না হলে সমস্যা

এসসিইআরটি দপ্তরের এক কর্তার কথায়, নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এত দিন প্রশিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে এ বার পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও তা প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যাঁরা আজ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাঁরাই আগামী দিনের শিক্ষক। এই গাফিলতি মেনে নেওয়া যায় না।” প্রসঙ্গত, গোটা রাজ্যে বায়োমেট্রিক হাজিরা (Biometric Attendance) ব্যবস্থা ঠিকমতো কার্যকর হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য এসসিইআরটি-র সদর দপ্তরের দুই আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পুরো প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন।

তবে বেসরকারি কলেজগুলির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ সেখানেও উপস্থিতির হার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ হস্তক্ষেপ করতে পারে।

Do working teachers have to pass TET?

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রের বড় চমক! মাসে মাসে ৫০০০ পেনশন, কারা পাবেন জানুন নিয়ম

অন্যদিকে, শিক্ষক স্বপন মণ্ডল বলেন, পড়ুয়াদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া ভাল পদক্ষেপ। তবে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের কর্মী ও অফিসারদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা (Biometric Attendance) চালু করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ভবিষ্যতের শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে ফেরাতে এ বার প্রযুক্তির সাহায্যেই কঠোর পথে হাঁটতে চলেছে এসসিইআরটি। হাজিরা নিয়ে গাফিলতি আর সহজে মেনে নেওয়া হবে না এমনই বার্তা স্পষ্ট।