এক প্রকল্পেই ১৫ বছরের ব্যর্থতা ফাঁস, ‘যুব সাথী’ নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেন বিজেপি নেতা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য ‘যুব সাথী’ (Yuva Sathi) প্রকল্পের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য জেলায় জেলায় ক্যাম্পে লম্বা লাইন পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিকে বিরোধীদের দিক থেকেও কম কটাক্ষ হচ্ছে না এই বেকার ভাতা নিয়ে। এবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাসক দলকে বিঁধলেন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

যুব সাথী (Yuva Sathi) ইস্যুতে তীব্র কটাক্ষ বিজেপি নেতার

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তিনি লিখেছেন, ‘যুব সাথী ও কিছু কথা!গতকাল রাত পর্যন্ত বেকার ভাতা পেতে প্রায় ৫৮ লাখ যুবক-যুবতী আবেদন জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডায়মন্ড হারবার মডেলের দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তারপরেই মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনা। আবেদনকারীর সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়াতে পারে বলে নবান্নের আশঙ্কা। কারণ এপ্রিলে সরকারকে ১১/১২ হাজার কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে। ফলে বেকার ভাতার চাপে পাকা সরকারি চাকুরেদের ডিএ জুটবে না, এটা নিশ্চিত।’

BJP leader slams tmc on yuva sathi

কী লিখেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়: তিনি আরও লিখেছেন, ‘তৃণমূল অবশ্য ৭০ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের ভাতার আবেদনকে অভূতপূর্ব সাফল্য বলে দেখাতে শুরু করেছে। কিন্তু এই একটি প্রকল্পই তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের ব‍্যর্থতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে। রাজ্যে যদি ৭০ লাখ মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতী ভাতার (Yuva Sathi) লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তো ধরে নেওয়া যায়, অন্তত আরও ৩০ লাখ আরও শিক্ষিত বেকার আছেন যাঁরা আত্মসম্মানের খাতিরে বেকার থাকলেও ভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েননি। তাই তৃণমূল সরকার যাওয়ার আগে ১ কোটি শিক্ষিত বেকার রেখে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন : সিইও দফতরে ঢুকতে গিয়ে বাধা শুভেন্দুকে, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা বিরোধী দলনেতার

রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ: পোস্টে হিসাব দিয়ে বিজেপি নেতা লিখেছেন, ৭৫ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক যারা ভিন রাজ্যে কাজ করছেন, তারাও বেকার। পাশাপাশি মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ বেকার যাঁরা রাজ্যে রয়ে গেছেন, তাঁদের সংখ্যাও প্রায় ৫০ লাখ। সব মিলিয়ে রাজ‍্যে বেকারের সংখ্যা কম করে সোয়া ২ কোটি বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘গত ১৫ বছর সরকার চালিয়ে তৃণমূলের এটাই সবচেয়ে বড় অবদান। ক্ষমতায় এসে তৃণমূল এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ তুলে দিয়েছিল। কারণ সেখানে প্রতি বছর বেকারেরা নাম লেখাতেন। যাওয়ার বেলায় বেকার ভাতা দিতে গিয়ে অন্তত নিজের ব‍্যর্থতাকে বেআব্রু করে দিয়েছে নবান্ন।’

আরও পড়ুন : স্টেশনে ঢুকতেই বিপত্তি, বিধাননগরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলল হাবড়া লোকালে!

এখানেই না থেমে এই সরকারের ব্যর্থতাগুলিও তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা। গত ১৫ বছরে সরকারি চাকরি না হওয়া, বেসরকারি ক্ষেত্রে, পরিষেবা ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান না হওয়া সরকারের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, শিল্পে বিনিয়োগ নেই। স্বনিযুক্তি প্রকল্পেও বেকারেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, ‘রাজ‍্যে বেকারদের অধিকাংশই মাধ্যমিক পাশ। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষার শ্মশান যাত্রা হয়েছে। সরকারি সাফল্যের ঢাক বলছে, এরাজ‍্যে শিক্ষিত বেকারদের রোজের দাম ৫০ টাকা। মাসে ১৫০০ টাকা। চূড়ান্ত অপমান। কিন্তু যাঁরা বেকার ভাতা পাবেন তাঁরা কি সবাই তাহলে তৃণমূলের ভোটার হয়ে গেলেন?’ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কর্মহীনরা বলছেন, সরকারি টাকা যেমন তারা নেবেন, ভোটও বুঝে দেবেন। ‘বেকারদের এই বুঝে ভোট দেওয়ার সচেতনতাই মনে হয় বাংলার বাতাসে আওয়াজ তুলেছে, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’, মন্তব্য বিজেপি নেতার।