বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর মরশুমে এবার তারকা নয়, সামনে আসবেন এলাকার চেনা-অচেনা মহিলারা। দুর্গাপুজো এবং কালীপুজোকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা নারীদের স্বীকৃতি দিতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি (BJP)। ‘নারী শক্তি সম্মান’ নামে এই উদ্যোগ বুথ থেকে শুরু করে অঞ্চল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
‘নারী শক্তি সম্মান’ দেবে বিজেপি (BJP)
বিজেপির তরফে জেলাগুলিকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে সম্মান প্রাপকদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতিকে। কোনও নামী অভিনেত্রী, তারকা কিংবা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বকে সামনে না এনে এমন মহিলাদের খুঁজে বের করার কথা বলা হয়েছে, যাঁরা সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন।
এই তালিকায় থাকতে পারেন স্বল্প আয়ের পরিবারের মহিলা, ছোট ব্যবসা চালানো উদ্যোগী, মেধাবী ছাত্রী কিংবা সামাজিক ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা কোনও নারী। বিশেষ করে যাঁদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি অথবা যাঁদের আরও সহায়তা ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রয়োজন, তাঁদের চিহ্নিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে হবে বাছাই? স্থানীয় পুজো কমিটির মাধ্যমে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে। সেই আবেদন সরাসরি চূড়ান্ত হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব আবেদনগুলি যাচাই করে দেখবে এবং দলীয় স্তরে পর্যালোচনার পর সম্মান প্রাপকদের নাম নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটিই স্থানীয় স্তর থেকে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিজেপির নারী সংক্রান্ত ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। পুরমন্ত্রীর কথায়, “বিজেপি বরাবরই মাতৃশক্তির আরাধনা ও সুরক্ষায় বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণসহ সর্বক্ষেত্রে নারীশক্তিকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। আমাদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, তাই দলের পক্ষ থেকে নেওয়া এমন উদ্যোগের শরিক হতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।”

আরও পড়ুন : বাংলায় তৈরি হতে চলেছে আরও একটি বিমানবন্দর! কোচবিহারে গিয়ে কী ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
পুজোর দিনগুলিতে স্থানীয় মহিলাদের নিয়ে এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির সুযোগ হবে বলে মনে করছে বিজেপি। বিশেষ করে বুথ এবং অঞ্চল স্তরে সংগঠনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও নিবিড় করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কাজে লাগতে পারে। ফলে ‘নারী শক্তি সম্মান’কে ঘিরে বিজেপির সামনে দুটি সমান্তরাল লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে স্থানীয় স্তরে প্রতিভাবান ও সংগ্রামী মহিলাদের স্বীকৃতি দেওয়া, অন্যদিকে উৎসবের আবহকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের জনসংযোগ বাড়ানো। পুজোর সময় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেদিকেই নজর।














