ইন্দ্রনীলের কমিটিতে বাদ বিজেপির জেতা ‘দুর্গ’, দক্ষিণ কলকাতার রমরমায় রাজ্য জুড়ে প্রশ্ন

Updated on:

Updated on:

BJP Youth Wing Panel Sparks Internal Dissent in Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে সংগঠন গোছাতে ব্যস্ত বিজেপি (BJP)। কিন্তু যুবমোর্চার নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পরেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে অসন্তোষের সুর। কারও প্রকাশ্য বিক্ষোভ নেই ঠিকই, তবে অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে কোন হিসেব কষে এই কমিটি গঠন করলেন যুবমোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ?

বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৬ মাস নতুন কমিটি ঘোষণা করেননি শমীক ভট্টাচার্য। পরে যখন তিনি কমিটি দেন, তখন আদি-নব্য মিলিয়ে একটা ভারসাম্য রাখার চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। ফলে বড়সড় বিক্ষোভ হয়নি। কিন্তু যুবমোর্চার নতুন কমিটি ঘোষণার পর ছবিটা আলাদা। সামনে ভোট বলে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। তবে অন্দরে ক্ষোভ জমছে। এমনকি, যাঁরা নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ খুশি নন, এমনই শোনা যাচ্ছে।

দক্ষিণ কলকাতাই কি ‘ফোকাস’ বিজেপির (BJP)?

দক্ষিণ কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শক্ত ঘাঁটি। এখানে বিজেপি কখনও বড় সাফল্য পায়নি। লোকসভা হোক বা বিধানসভা, বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। তবু নতুন যুবমোর্চা কমিটিতে সবচেয়ে বেশি সদস্য নেওয়া হয়েছে এই দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলা থেকেই। যুবমোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ নিজেও দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। দলের একাংশের দাবি, তিনি বেহালার একটি আসন থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চাইছেন। তাই নিজের এলাকায় সংগঠন শক্ত করতে এখন থেকেই ‘নিজের লোক’দের তুলে আনছেন, এমন অভিযোগ উঠছে। দক্ষিণ কলকাতা থেকে রাজ্য কমিটিতে রয়েছেন মুকুন্দ ঝা, শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, তমসা চট্টোপাধ্যায়, তিনজনই রাজ্য সম্পাদক। সমাজমাধ্যমের দায়িত্বেও রয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার বিবেক শর্মা। পাশের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা থেকেও দু’জনকে নেওয়া হয়েছে। অঙ্কিত দেবকে করা হয়েছে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। অরুণ শাহ হয়েছেন রাজ্য সহ-সভাপতি।

হাওড়াতেও বাড়তি গুরুত্ব

হাওড়া জেলা থেকেও চারজন জায়গা পেয়েছেন। অমিত সামন্ত ও প্রিয়ঙ্কা শর্মা সহ-সভাপতি হয়েছেন। অভিমন্যু বর্মা আইটি ইনচার্জ, সুপ্রাণ বর্মণ মিডিয়া ইনচার্জ। অথচ হাওড়ায় বিজেপি এখনও কোনও বিধানসভা বা লোকসভা আসনে জিততে পারেনি। তাই এই প্রাধান্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

শক্ত ঘাঁটি বাদ কেন?

হুগলি থেকে দু’জন জায়গা পেলেও আরামবাগ থেকে কেউ নেই, যেখানে বিজেপি তুলনামূলক শক্তিশালী। উত্তরবঙ্গের ছবিটাও একই রকম। মালদহ বিভাগের চারটি লোকসভা আসনের মধ্যে তিনটিতে বিজেপি টানা দু’বার জিতেছে। কিন্তু সেই এলাকা থেকে কাউকে রাখা হয়নি। দার্জিলিংয়ে যেখানে গত লোকসভায় বিজেপি সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জিতেছিল, সেখান থেকেও কেউ নেই। আলিপুরদুয়ার থেকেও নয়।

এছাড়া মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, একাধিক জেলা পুরোপুরি বাদ পড়েছে। এমনকি প্রাক্তন যুবমোর্চা সভাপতি এবং বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র খাঁ-র বিষ্ণুপুর থেকেও কেউ জায়গা পাননি।

More than 150 families leave Trinamool and join BJP in Binnaguri

আরও পড়ুনঃ এপ্রিল না মে? মাধ্যমিক ফল প্রকাশের দিন কবে? জানালেন পর্ষদ সভাপতি

দলের অনেকে বলছেন, যেখানে বিজেপি (BJP) জিতছে সেই জেলাগুলো বাদ, আর যেখানে বারবার হারছে সেখানে এত গুরুত্ব, এই সমীকরণ অনেকেরই মাথায় ঢুকছে না। বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক সক্রিয় তরুণ মুখ কেন সুযোগ পেলেন না, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। ভোটের আগে বিতর্ক বাড়ুক, সেটা কেউই চান না। এ নিয়ে ইন্দ্রনীল খাঁর প্রতিক্রিয়া খুব সংক্ষিপ্ত। তিনি শুধু বলেন, ‘কোনও মন্তব্য করব না।”