বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় বাজেট (Budget 2026) ঘিরে এবার বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তুমুল তরজা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এই বাজেটে বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বাজেট বাংলার জন্য উন্নয়নমুখী এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বাজেট ঘোষণার পরেই দু’পক্ষের এই পাল্টা বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন চড়ছে।
বাজেট (Budget 2026) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নাকচ করল বিজেপি
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূলের ছানির অপারেশনটা জরুরি। কিন্তু কানেও যে সমস্যা আছে, সেটা আগে বোঝা যায়নি। দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, ডানকুনি, এগুলো কি ভিন গ্রহে? এই বাজেট বাংলাকে আরও উচ্ছ্বসিত করার বাজেট।” তাঁর মতে, আসল পরিবর্তন দেখা যাবে মে মাসে, তখনই বাংলার মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পাবে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা সজল ঘোষও একই সুরে তৃণমূলের অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “শুধু বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি হাইস্পিড ট্রেনকেই কেন দেখছি? ওষুধের দাম যে কমল, তার সুবিধা কি বাংলার মানুষ পাবে না? উন্নয়ন হলে তৃণমূল বলে ভোটমুখী রাজনীতি, আর উন্নয়ন না হলে বলে কিছুই করা হল না।” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি বাংলার উন্নয়নের দিকে নজর রাখছেন।
নতুন কেন্দ্রীয় বাজেটে (Budget 2026) শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আয়কর সংক্রান্ত একাধিক সুযোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তগুলির সুফল গোটা দেশের সঙ্গে বাংলার মানুষও সমানভাবে পাবেন। কিন্তু তৃণমূলের প্রশ্ন, এই সুবিধাগুলি বাস্তবে কতটা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছবে?
প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা বর্তমান বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, “এটা কোনও ভোটের বাজেট নয়, উন্নয়নমুখী বাজেট। বাংলার ১০ কোটি মানুষ দেশের বাকি মানুষের মতোই একই সুবিধা পাবেন। যারা বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা ভাবে, তারাই এই বাজেটে খুশি হবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়বে এবং রাজ্যের উন্নয়ন গতি পাবে।

আরও পড়ুনঃ সিগারেট-মদ মহার্ঘ, ওষুধ সস্তা, নতুন বাজেটে কীসের দাম বাড়ল, কীসের কমল?
সব মিলিয়ে বাজেট (Budget 2026) নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তবে ভোটের আগে এই বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের কাছে এই বাজেট শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদ হয়ে ওঠে, নাকি অভিযোগের মেঘই ঘনিয়ে থাকে।












