বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে নতুন করে আশার আলো দেখলেন দার্জিলিংয়ের এক নিঃসন্তান দম্পতি। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের আশায় একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেও ব্যর্থ হওয়ার পর, অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে তাঁদের সামনে খুলে গেল মাতৃত্ব-পিতৃত্বের নতুন পথ।
সারোগেসি পদ্ধতির অনুমতি হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা ওই দম্পতিকে ‘অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি’-র মাধ্যমে সারোগেসি পদ্ধতিতে সন্তান গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি পেয়েছেন দম্পতি।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, “মহিলা সারোগেসি পদ্ধতিতে সন্তান গ্রহণের আবেদন করেছিলেন বয়স সীমার মধ্যেই। মহিলার ভ্রূণের ক্রায়োপ্রিজার্ভড সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া সফলভাবে হয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী মহিলা সন্তান লাভের জন্য সক্ষম। সন্তান লাভের শেষ চেষ্টা থেকে দম্পতিকে বঞ্চিত করতে পারে না কর্তৃপক্ষ।” আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাভাবিকভাবে সন্তান লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির দ্বারস্থ হন ওই দম্পতি। প্রথমে আইভিএফ পদ্ধতিতে চেষ্টা চালান তাঁরা, কিন্তু তাতেও সফলতা না পেয়ে, শেষ ভরসা হিসেবে সারোগেসি পদ্ধতির দিকে এগোন।
উল্লেখ্য, ওই দম্পতি সারোগেসির জন্য প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল ইনডিকেশন শংসাপত্র পেতে ২০২৫ সালের ২৬ মে দার্জিলিং জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসারের দফতরে আবেদন জানান। ১৬ অক্টোবর স্বাস্থ্য ভবন থেকে সেই শংসাপত্র মেলে। এরপর প্রাথমিক ধাপে মহিলার ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ভ্রূণ তৈরি করা হয় এবং সেটিকে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন : শেষ সময় চলে আসছে, আধার আপডেট না করলে ১৪ জুনের পর বিপাকে পড়বেন
ওই দম্পতি অভিযোগ করেন, গর্ভদান (সারোগেসি) আইন ২০২১ অনুযায়ী সোরোগেসি পদ্ধতি সম্পূর্ণ করার জন্য অনুমতি পত্র খারিজ করে স্বাস্থ্য দফতর। দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করায় এই অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দম্পতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সমস্ত দিক বিচার করে আদালত শেষমেশ তাঁদের পক্ষেই রায় দেয় এবং সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান লাভের অনুমতি প্রদান করে। এই রায়ের মাধ্যমে শুধু ওই দম্পতিরই নয়, একই পরিস্থিতিতে থাকা বহু দম্পতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আদালত। চিকিৎসা প্রযুক্তির সহায়তায় মাতৃত্ব-পিতৃত্বের অধিকার যে সংরক্ষিত হওয়া উচিত, সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট হল।












