বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বেলডাঙা হিংসার মামলায় হঠাৎ বড় মোড়। কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) শুনানি চলাকালীনই বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নিজেই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে মামলাটি আবার নতুন করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। মূলত ইউএপিএ আইনের প্রয়োগ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
কেন সরে দাঁড়াল ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court)?
শুনানির সময় বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলায় ‘ইউএপিএ’ বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা প্রয়োগ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র প্রধান বিচারপতির। সেই কারণে ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করতে পারে না। এই আইনি সীমাবদ্ধতার জেরেই মামলাটি প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
NIA কেন হাইকোর্টে গেল?
বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৫ জন অভিযুক্তকে এনআইএ-র বিশেষ আদালত জামিন দেয়। আদালতের (Calcutta High Court) মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে পারেনি এনআইএ, তাই জামিন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে?
এই ঘটনার শুরু ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ওই শ্রমিকের বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন, শুরু হয় বিক্ষোভ।
প্রতিবাদ ধীরে ধীরে বড় আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন এবং শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনের মহেশপুর এলাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বাঁধে। এই সময় একাধিক মানুষ আহত হন এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

আরও পড়ুনঃ সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ স্থগিত! শিক্ষকদের ভোটের কাজে সবুজ সঙ্কেত হাই কোর্টের
প্রথমে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে তদন্তভার দেওয়া হয় NIA-কে। বর্তমানে সেই তদন্তই চলছে এবং মামলাটি নতুন করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায়।












