রাজ্যে কাশির সিরাপ রাখার নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, বড় পর্যবেক্ষণ আদালতের, কোন মামলায়?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক ওষুধ ব্যবসায়ীর জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্য সরকারের তরফে নির্দিষ্ট কোনও গাইডলাইন দেখাতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নিল হাই কোর্ট। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যে কোডিন-যুক্ত কাফ সিরাপ মজুতের নিয়ম নিয়ে।

রাজ্যের তরফের গাইডলাইন না থাকায় জামিন মঞ্জুর আদালতের (Calcutta High Court)

আদালতে বিচারপতি বলেন, একজন বিক্রেতা কত পরিমাণ কাশির সিরাপ মজুত রাখতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার রাজ্যের তরফে পেশ করা হয়নি। যদি এমন কোনও গাইডলাইন থাকত, তবে পাইকারি বা খুচরো বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কাফ সিরাপ মজুত করা থেকে বিরত রাখা যেত।

আদালত (Calcutta High Court) আরও জানায়, উত্তরপ্রদেশে কোডিন-যুক্ত কাফ সিরাপ মজুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দপ্তর নির্দেশ জারি করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্য ১০০ মিলিগ্রাম করে ১০০০ বোতল এবং খুচরো বিক্রেতাদের জন্য ১০০ মিলিগ্রাম করে ১০০ বোতল পর্যন্ত মজুতের সীমা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের কোনও সীমা নির্ধারণের নথি আদালতে দেখাতে পারেননি রাজ্যের আইনজীবী রায়ে এমনই উল্লেখ করেন বিচারপতি।

ঘটনাটি গত এপ্রিলে হাওড়ায়। একটি ওষুধের দোকান থেকে ১৫৮.৮ লিটার কোডিন-মিশ্রিত ফেনসিডিল কাফ সিরাপ এবং ট্রামাডল মিশ্রিত ক্যাপসুলের দু’টি প্যাকেট উদ্ধার হয়। অভিযোগ, নথিপত্র চাওয়া হলে দোকানদার তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়।

Calcutta High Court Address Renamed After 164 Years

আরও পড়ুনঃ ইন্দ্রনীলের কমিটিতে বাদ বিজেপির জেতা ‘দুর্গ’, দক্ষিণ কলকাতার রমরমায় রাজ্য জুড়ে প্রশ্ন

জামিন মঞ্জুর করতে গিয়ে বিচারপতি বলেন, রাজ্য কেবল নিষিদ্ধ সামগ্রী বাজেয়াপ্তের বিষয়টি তুলে ধরতে পেরেছে। কিন্তু উদ্ধার হওয়া পদার্থগুলি চিকিৎসা বা বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না সে বিষয়ে কোনও উপস্থাপন করা হয়নি। এনডিপিএস আইনের বিধি অনুযায়ী, লাইসেন্সের আড়ালে অবৈধ কার্যকলাপ চললে আইন প্রয়োগে বাধা নেই। তবে সে ক্ষেত্রে বেআইনি সংগ্রহ, বিক্রি, হিসাবখাতায় এন্ট্রি না-থাকা বা রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির মতো নির্দিষ্ট উপাদান দেখাতে হবে বলেও আদালত (Calcutta High Court) মনে করিয়ে দেয়।