বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) । ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়েছে। আগামী বিধানসভা অধিবেশনের আগে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৈরি হওয়া এই জট দ্রুত মেটানোর দাবি উঠেছে।
বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে কী বলল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও বিধায়ক চাইলে অন্য দলে যেতে পারেন বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। কিন্তু তাঁরা নিজেদের নতুন দলের প্রতিনিধি বলে দাবি করতে পারেন না। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভার অধ্যক্ষ সকল বিধায়কের অভিভাবকের মতো কাজ করেন এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেন। তবে তাঁকেও নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
আদালতে (Calcutta High Court) তিনি আরও জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে আসন বণ্টন, ঘর বরাদ্দ-সহ একাধিক বিষয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের কিছু বিধায়ক এখনও নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে মত দিলেও বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি। তাই স্পিকারের সিদ্ধান্ত সঠিক কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
শুনানির সময় রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দলের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বই নেয়। শুধু পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে তা নির্ধারিত হয় না। এই প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের কিছু পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ শেষ মুহূর্তের আবেদন আর গ্রহণ নয়! টেন্ডার নিয়ে কড়া বার্তা নবান্নের
তাঁর দাবি, দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত মত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে আদালত (Calcutta High Court) এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বিধানসভার অধ্যক্ষকে মঙ্গলবারের মধ্যে নিয়োগপত্র-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।













