হাই কোর্টে স্বস্তি! নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে কী বলল আদালত?

Published on:

Published on:

Calcutta High Court On Milan Pradhan
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) শুনানি হয়। সেখানেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দেওয়া হোক। আদালত অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার কথাও জানায়। অন্যদিকে, মিলনের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে রাজ্য।

Calcutta High Court : ‘মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন’

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মিলন প্রধানের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন। আমি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি।” বিচারপতির আরও বক্তব্য, মিলন নির্বাচনে অংশ নিন। এরপর মামলার কী হবে, সেটা পরের বিষয়। শুক্রবার বিকেল ৪টেয় ফের তাঁর জামিনের মামলার শুনানি হবে।

নতুন মামলায় গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা

এর আগে বুধবার মিলন প্রধানের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একটি মামলা হয়েছে। ২০০৭ সালের একটি মামলায় কাঁথি মহকুমা আদালত তাঁকে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। মিলনের বিরুদ্ধে থাকা আরও কয়েকটি মামলায় যাতে নতুন করে কোনও পদক্ষেপ না করা হয়, সেই আবেদন করা হয়েছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চ সেই মামলায় নতুন করে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকেই এবার চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

কী নিয়ে আপত্তি মিলনের আইনজীবীর?

মিলন প্রধানের আইনজীবী ঋতেশ পাণ্ডে বলেন, যে পাঁচটি মামলার ভিত্তিতে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেগুলি ছাড়া অন্য কোনও মামলায় যেন তাঁকে নতুন করে হেনস্থা করা না হয়, সেটাই তাঁদের বক্তব্য ছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, খেজুরি থানার একটি মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেই মামলার শুনানি হয়।

আইনজীবীর দাবি, আদালত রাজ্যকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নতুন করে ওই মামলায় মিলনকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না। এরপর রাজ্য সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়।

বাকি পাঁচ মামলায় আপাতত কোনও পদক্ষেপ নয়

মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা বাকি পাঁচটি মামলায় আপাতত কোনও পদক্ষেপ করা হবে না বলে হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জানিয়েছে রাজ্য। ফলে ওই পাঁচ মামলায় আলাদা করে রক্ষাকবচেরও প্রয়োজন নেই। মিলনের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁদের মূল দাবি ছিল, যে মামলাগুলির ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেগুলি ছাড়া অন্য কোনও মামলায় যেন তাঁকে নতুন করে গ্রেফতার বা হেনস্থা করা না হয়।

কী বললেন মিলনের স্ত্রী?

আদালতের শুনানির পর মিলন প্রধানের স্ত্রী বলেন, তিনি সাধারণ পরিবারের মানুষ এবং রাজনীতির বিষয় খুব বেশি বোঝেন না। তবে তিনি হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং সব আইনজীবীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, কলেজ জীবন থেকেই মিলন কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। কংগ্রেসকে ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন। তাঁর দাবি, টাকার লোভে অন্যদের মতো মিলন অন্য দলে চলে যাননি। ২০০৭ সালের একটি ঘটনায় তাঁকে জড়ানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

কংগ্রেসের দাবি কী?

প্রদেশ কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য প্রকাশ যোশী বলেন, ২০০৭ সালের ঘটনায় শুধু মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নয়, আরও বহু মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, একসময় সরকার ওই মামলা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিল। পরে সেই মামলা আবার চালু করা হয়। মিলন কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়ার কারণেই তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজেপির বক্তব্য

বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, আইন মেনে নির্বাচনে লড়ার অধিকার সবার রয়েছে। তবে তাঁর প্রশ্ন, মামলা এত পুরনো হওয়া সত্ত্বেও মিলন প্রধান এতদিন কেন জামিন নেননি। ১৫ বছর ধরে মামলা সম্পর্কে জানার পরও কেন তিনি জামিন নেননি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

২০০৭ সালের মামলায় গ্রেফতার

গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।

Calcutta High Court Upholds 2 Year Jail for Illegal Construction

আরও পড়ুনঃ চাঁদা নিয়ে ঝামেলা হলেই ফোন করুন, পুজোর আগে বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা হয়েছিল। খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত এবং লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল ওই মামলাগুলিতে। প্রায় ১৯ বছর পুরনো এই মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। এখন হাই কোর্টের (Calcutta High Court) অন্তর্বর্তী জামিনের পর্যবেক্ষণের পর শুক্রবার বিকেল ৪টের শুনানির দিকে নজর রয়েছে।