বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে হাইকোর্টে লড়াই! স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন বিচারপতির

Published on:

Published on:

Calcutta High Court questions speaker role in WB assembly opposition leader selection
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে টানাপড়েন চরমে উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতেই বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তোলে আদালত।

কড়া পর্যবেক্ষণ ক্ষুব্ধ বিচারপতির | (Calcutta High Court)

এদিনের শুনানি চলাকালীন বিধানসভার অধ্যক্ষের তরফে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, এক্ষেত্রে সীমিত ভূমিকা রয়েছে স্পিকারের। তবে তিনি কোনও রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারেন না।

আরও পড়ুনঃ ‘ভিকটিম কার্ড খেলছেন’! কাকলিকে চরম আক্রমণ কল্যাণের, প্রশংসায় ভরালেন অগ্নিমিত্রাকে

এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, গত ১৯ মে একটি প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য একজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং সেখানে বিধায়কদের স্বাক্ষর ছিল। মামলাকারীও সেই বিষয়ে অবগত ছিলেন।

আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, মামলাকারী গত ৬ মে-র প্রস্তাবের (রেজোলিউশন) কথা বলছেন। তবে সেদিন নয়, সই নেওয়া হয়েছিল ১৯ মে। সেই সইগুলি সব ব্লক লেটারে লেখা। বিধানসভার কাছে থাকা বিধায়কদের মূল সইয়ের সঙ্গে এগুলি মিলিয়ে দেখা এখনও বাকি আছে বলে জানান তিনি।

এরপরেই একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করেন হাইকোর্টের বিচারপতি। তিনি জানতে চান, “প্রথম যেদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বলা হয়েছিল, সেদিন বিধানসভায় কতগুলি রাজনৈতিক দল ছিল? সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া বিরোধী দলের তরফেই কি নাম প্রস্তাব করা হয়? তাঁরা যে নাম প্রস্তাব করেছিল সেটি উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ কি নিজের মতো করে অন্য কাউকে নিয়োগ করতে পারেন?’

জবাবে স্পিকারের আইনজীবী বলেন, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। একথা শুনে বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, “একই দলের তরফে দু’টি নাম প্রস্তাব করা হলে স্পিকার কী করবেন? উনি কি দু পক্ষকেই বলার সুযোগ দেবেন নাকি নিজে থেকে একজনের নাম বেছে নেবেন?”

Calcutta High Court

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আগে যারা সই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই দু’ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করেছেন। স্পিকার বিধানসভা না ডেকে কে ঠিক কীভাবে বুঝলেন? দরকার পড়লে সম্পূর্ণ বিষয়টি ‘পুলিশ তদন্ত করে দেখুন’ বলেও মন্তব্য করে উচ্চ আদালত।

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে লড়াই হাইকোর্ট অবধি পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, বুধবার আবারও এই মামলার শুনানি হবে। আগামীকাল উচ্চ আদালতে কী হয় আপাতত সেদিকেই নজর সকলের।