‘আপনাদের কি কোনও মানবিকতা নেই?’ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগে কড়া হাইকোর্ট

Published on:

Published on:

Calcutta High Court takes stern view regarding allegations of mistreatment of contractual workers
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ৩৫ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে কাজ করেও চাকরির নিশ্চয়তা মেলেনি! অবসরের পরও যদি কোনও কর্মীকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার নিয়ে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। দূরদর্শনের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর চাকরি স্থায়ীকরণ এবং বকেয়া পাওনা সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার এমনই কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের সঙ্গে যে আচরণের অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে দূরদর্শন কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো কাঠগড়ায় দাঁড় করাল আদালত।

দূরদর্শনকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)

মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মী ১৯৮৯ সাল থেকে দূরদর্শনে কাজ করছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁর চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তরফে দীর্ঘসূত্রিতা চলে বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত ২০২৪ সালে অবসর নেন ওই কর্মী। এই মামলাতেই দূরদর্শনের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তোলে আদালত।

অভিযোগ, শুধু একজন কর্মী নন, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একই ধরনের বঞ্চনার মধ্যে রয়েছেন একাধিক চুক্তিভিত্তিক কর্মী। তাঁদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনীহার অভিযোগও মামলার আবেদনে উঠে এসেছে।‌ বিষয়টি শুনতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে উঠে আসে মানবিকতার প্রশ্ন। বম্বে হাইকোর্টের একটি মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যে ভাবে নর্দমা বা পয়ঃপ্রণালীতে মানুষকে দিয়ে সাফাইয়ের কাজ করানোর বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দিয়ে জেলে পর্যন্ত পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তেমন কঠোর অবস্থান এখানেও প্রয়োজন।”

এর পরেই দূরদর্শনের ভূমিকা নিয়ে আরও সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “আপনাদের কি কোনও মানবিকতা নেই? ঘণ্টার পর ঘণ্টা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে যুক্তি সাজিয়ে লাভ নেই। কোনও মেধার যুক্তি এখানে খাটবে না, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যে শোষণ চলছে, সেটাই সব চেয়ে বড় প্রমাণ।”

আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, বিষয়টিকে শুধুমাত্র একজন কর্মীর চাকরি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে দেখছে না ডিভিশন বেঞ্চ। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মীদের অধিকার কী ভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, সেটিও আদালতের নজরে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “কোনও সংস্থাই এমন অমানবিক আচরণ দিনের পর দিন চালিয়ে যেতে পারে না।”

শুনানির শেষপর্বে দূরদর্শনের আইনজীবীকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেয় আদালত। আইনজীবী জানান, দূরদর্শনের মতো প্রতিষ্ঠানে লিখিত নির্দেশ পেতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সেই আবেদন মেনে পরবর্তী শুনানির দিন ৮ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। তবে সেদিন যেন কোনও ধরনের গড়িমসি না হয়, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।

Calcutta High Court takes stern view regarding allegations of mistreatment of contractual workers

আরও পড়ুন : পুজোর আগে দিতে হবে বোনাস! সরকারি হাসপাতালের এই কর্মীদের নিয়ে বড় নির্দেশ রাজ্যের

পাশাপাশি ১৯৯২ সালের নির্দেশ বা নীতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বকেয়া এবং প্রাপ্য অধিকার মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের তরফে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, “এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে, আদালত এই ধরনের শোষণের পক্ষে সায় দেবে।” এখন ৮ অক্টোবরের শুনানিই গুরুত্বপূর্ণ। সেদিন দূরদর্শন কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।