বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ঠিক আগে রাজ্যে একের পর এক বড় বড় আধিকারিককে সরিয়ে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল আদালতে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনও স্বস্তি পেল না শাসকদল। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।
আধিকারিক অপসারণ নিয়ে হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বড় রায়
মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরানোর বিরুদ্ধে তৃণমূল যে মামলা করেছিল, তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ এই রায় দেয়। শুধু তাই নয়, বিডিও ও বিভিন্ন থানার ওসি-দের সরানো নিয়েও যে মামলা হয়েছিল, সেটাও খারিজ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যে একের পর এক আধিকারিক ও পুলিশকর্তাকে বদলি করতে শুরু করে। এই নিয়েই আপত্তি তুলে জনস্বার্থ মামলা করেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। তাঁর হয়ে আদালতে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ আদালতে বলেন, খুব তাড়াহুড়ো করে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরানো হয়েছে। তাঁকে অন্য কোনও দায়িত্বও দেওয়া হয়নি।
একইভাবে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও সরিয়ে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে, যদিও তিনি সরাসরি ভোটের কাজে যুক্ত ছিলেন না। কেন এইভাবে সরানো হল, সেই প্রশ্নই তোলা হয়। মামলাকারীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে ক্ষমতার কথা বলা আছে ঠিকই, কিন্তু সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে হলে যুক্তি থাকা দরকার। না হলে এতে রাজ্য ও কেন্দ্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে কমিশনের আইনজীবীরা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট করানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব রাজ্যের পরিস্থিতি এক রকম নয়, তাই জায়গা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, একদিনের মধ্যেই রাজ্যে বিডিও, ওসি-সহ মোট ২৬৭ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেয় কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হলেও শেষ পর্যন্ত আদালত (Calcutta High Court) তাতে সায় দেয়নি। এই নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনাও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনও হয়নি।
















