বাংলা হান্ট ডেস্ক : উৎসবের মরসুমে বাজির ধোঁয়া থেকে শুরু করে শহর ও শিল্পাঞ্চলের দৈনন্দিন দূষণ—রাজ্যে বায়ুর মান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এবার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। শুধু দূষণ কমানোর নীতি ঘোষণা নয়, সেই নীতি বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হবে এবং তার ফল পেতে কতটা সময় লাগবে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব চায় আদালত। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে একটি নির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বায়ুদূষণ রোধে কড়া কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)
বায়ুর গুণমান সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আইনজীবী আকাশ শর্মার করা ওই মামলার সঙ্গে আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা মিলিয়ে শুনছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। গত ২১ সেপ্টেম্বর শুনানিতে রাজ্যজুড়ে বায়ুদূষণ মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায় আদালত।
রাজ্যের তরফে শুনানিতে জানানো হয়, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের উন্নতির জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতি প্রয়োজন। সেই নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আদালতকে জানানো হয়।
এরপরই পরিকল্পনাটিকে আরও নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতি তৈরি করাই শেষ কথা নয়। দূষণ কমানোর জন্য বাস্তবে কোন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেগুলি কখন থেকে কার্যকর হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে কতটা সময় লাগবে—সবটাই পরিকল্পনায় স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
এ জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে একাধিক পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের আধিকারিকদের মতামত নিয়েই তৈরি করতে হবে রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা। পর্ষদের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আরও বিস্তারিত তথ্য-সহ হলফনামা জমা দেওয়া হবে। সেই নথিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পদ্ধতি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবে নেওয়া যেতে পারে এমন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ থাকবে।
রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়েছে আদালত। আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে হলফনামা-সহ বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সেখানে শুধু কী করা হবে তা নয়, প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়ও উল্লেখ করতে হবে। বাজি পোড়ানোর ফলে যাতে বায়ুর মান আরও খারাপ না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করার কথাও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন :পুজোর মুখেই বড় ধাক্কা! ১ অক্টোবর থেকে বাড়ছে AC-TV-ফ্রিজের দাম, কতটা বাড়বে জেনে নিন
রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের জমা দেওয়া রোডম্যাপে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা থাকে, কোন কাজের জন্য কী সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং উৎসবের মরসুমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—তারই স্পষ্ট ছবি মিলবে পরবর্তী শুনানি ১৯ নভেম্বরে।













