বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের (Midday Meal) দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে আইনি জট আরও ঘনীভূত হল। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকার পরিবর্তন থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ— একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করতে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
মিড ডে মিল নিয়ে হলফনামা তলব হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় আদালতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। আগেই মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল।
আবেদনকারীদের মূল আপত্তি ছিল, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে প্রচলিত ডিম ও মাছের পরিবর্তে নিরামিষ খাবার চালুর সম্ভাবনা এবং সেই সঙ্গে রান্নার দায়িত্ব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বদলে ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা। মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, কলকাতা পুর এলাকার প্রায় ১৮০০টি স্কুলে আপাতত ইসকন রান্না করা খাবার সরবরাহ করবে।
মামলাকারী আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে স্কুলভিত্তিক যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই ব্যবস্থা বদলের ফলে প্রায় ২৫ লক্ষ মহিলা চাকরিহারা হয়ে পড়বেন। তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, রাজ্য বাজেটে ঘোষণায় জানানো হয়েছিল কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে ইসকনের সহযোগিতায় মিড-ডে মিল প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকায় ডিম ও মাছের পরিবর্তে পনির, রাজমার মতো নিরামিষ খাবার কেন রাখা হবে এবং বর্তমানে কর্মরত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে।

আরও পড়ুন :অন্ধকারেও নিখুঁত নিশানা! কোন অফিসারের গুলিতে খতম বারুইপুর কাণ্ডের প্রভাস? চিনে নিন
শুনানির সময় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে বলেন, “গোটা ব্যাপারটাই প্রস্তাব। আমাদের একটা প্রস্তাব এসেছে, সেই পর্যন্ত। আগাম মামলা দায়ের হয়েছে।” এর জবাবে আদালত মন্তব্য করে, “আপনার যুক্তি মেনে নিয়েও বলছি, মামলাকারী একটা ভিত্তি থেকে মামলা করেছেন। আগামিদিনে এই নিয়ে একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করল সরকার আর এক ঝটকায় কয়েক লক্ষ মহিলার কাজ চলে গেল, তখন কী হবে?” সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, এই বিষয়ে সরকারের প্রকৃত অবস্থান হলফনামা আকারে জানাতে হবে। সেই নির্দেশ দিয়ে চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের পর এখন নজর রাজ্যের হলফনামার দিকেই, কারণ তার ওপরই নির্ভর করবে মিড ডে মিল -এর এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ।













