বাংলা হান্ট ডেস্ক : দোকান উচ্ছেদের পদ্ধতি নিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) উঠল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ ছাড়াই বেসরকারি ব্যক্তিরা কীভাবে জেসিবি নিয়ে দোকান সরানোর কাজে নামলেন, তা জানতে চাইল আদালত। শুধু তাই নয়, এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
জেসিবি দিয়ে দোকান উচ্ছেদ মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)
ফুটপাত-সহ বিভিন্ন সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকান সরাতে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। সেই উচ্ছেদ ঘিরে পুনর্বাসনের দাবিও সামনে এসেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, বিকল্প ব্যবস্থা না করে দোকানদারদের সরিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় হাই কোর্টের তরফে পুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার মামলাটির শুনানি হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, আগে যাঁদের দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের ফের সেখানে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেই আদালতকে জানান তিনি।
শুনানির মধ্যেই একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। অভিযোগ, এক দোকানদারকে উচ্ছেদের আগে তাঁর দোকানের সামনের অংশে বড় গর্ত করে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বলেন, “কী হচ্ছে এটা? ওরা জেসিবি ব্যবহার করেছে।” রাজ্যের তরফে তখন জানানো হয়, ঘটনাটি সংশোধন করা হয়েছে।
বিচারপতির বক্তব্য, কোনও দোকানদার বেআইনিভাবে জায়গা দখল করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াতেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই অভিযোগকে সামনে রেখে কোনও ব্যক্তি বা বেসরকারি সংস্থা নিজেরাই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে কারণ দেখিয়ে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।
এই প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য করে আদালত। বেঞ্চের বক্তব্য, বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা যখন দোকান সরানোর কাজ করছিলেন, তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় দর্শকের মতো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে কীভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ চলল, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে শুনানিতে।

আরও পড়ুন : শুধু তীর্থ নয়, এবার ‘আন্তর্জাতিক শহর’ হবে মায়াপুর! কী পরিকল্পনা সরকারের?
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা নির্দেশ ছাড়া কাউকে এভাবে উচ্ছেদ করা যায় না। দখল বেআইনি হলেও তার প্রতিকার করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ রয়েছে। সেই পথ এড়িয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দোকান ভাঙা বা জায়গা খালি করানো গ্রহণযোগ্য নয়—শুক্রবারের শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণের মূল বক্তব্য ছিল সেটাই। প্রশাসনের কোনও পদক্ষেপই যেন আইনের সীমার বাইরে না যায়, সেই বিষয়টিই হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব পেল।













