বাংলাহান্ট ডেস্ক : ফের কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ভর্ৎসনার মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, শুধুমাত্র কমিটি গঠন করলেই হবে না, কাজ চাই। আর সেটা রাজ্যকেই নিশ্চিত করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে আদালত।
জেল সংস্কার নিয়ে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) তিরস্কারের মুখে রাজ্য
রাজ্যের জেলগুলির পরিকাঠামো, অতিরিক্ত বন্দি, অথচ কর্মীর অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া অর্থ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আগেই রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের কৈফিয়ত জানতে চাওয়া হয়। আদালত সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এ বিষয়ে জানান, একের পর এক আদালত নির্দেশ দিলেও বাস্তবে এই তিনটি বিষয়ে অগ্রগতি খুবই সীমিত।

কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ: কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি। এরপরেই রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ডিভিশন বেঞ্চ। ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court) জানায়, গত বছর মুখ্যসচিব জেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি SOP বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হওয়ার কোনও ফল পাওয়া যায়নি। উপরন্তু বকেয়া অর্থের অজুহাতে বেশ কিছু জেলে সংস্কারের কাজ আটকে রয়েছে।
আরও পড়ুন : মৃতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাস, ঘটনার ৬০ ঘন্টা পর মুখ খুলে কার ঘাড়ে দোষ চাপাল Wow! Momo কর্তৃপক্ষ?
কী জানায় আদালত: এরপরেই ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, শুধু কমিটি গঠন করলে হবে না। কাজ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। সংশোধনাগার সংস্কারের কাজে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট জানায় আদালত। সংশোধনাগার শুধুমাত্র বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখার জায়গা নয়। তাদের মানবাধিকার রক্ষা করার সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে। সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ ইঙ্গিত দেয়, বন্দিদের নাগরিক অধিকার যদি লঙ্ঘিত হয় তবে আদালত আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
আরও পড়ুন : ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই বদল গ্যাস-সিগারেটের দামে, কী কী সুবিধা হবে মধ্যবিত্তের?
উল্লেখ্য, এই মামলার আগামী শুনানি ১০ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন কমিটি গঠন থেকে সরকারের পদক্ষেপ এবং জেলের সংস্কার সংক্রান্ত বাস্তব অগ্রগতির একটি রিপোর্ট রাজ্য সরকারকে জমা দিতে হবে বলে সময় বেঁধে দিয়েছে আদালত।












