বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের লাইভ সম্প্রচার না হওয়াকে ঘিরে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দায়িত্বে থাকা পূর্ত দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে কড়া প্রশ্ন করা হয় রাজ্য সরকারকেও।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কী ঘটেছিল?
গত ১৬ জানুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সুজয় পাল। ওই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটির লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দায়িত্ব ছিল পূর্ত দফতর (PWD)-এর উপর। ইউটিউবে লাইভ সম্প্রচারের পাশাপাশি এজলাসের বাইরেও সেই অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল। অভিযোগ, এজলাসের বাইরে লাইভ সম্প্রচার করতেই আপত্তি জানান পূর্ত দপ্তরের এক এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি কাজ করতে রাজি হননি।
বিচারপতিদের বেঞ্চে প্রকাশ্যে ক্ষোভ
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার শুনানিতে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদির বেঞ্চ। বিচারপতি বসাক প্রশ্ন তোলেন, “এই এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে আরও ভালো জায়গায় পাঠানো উচিত। এনাকে এখানে কেন রাখা হয়েছে? ওঁর জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার এখানে হচ্ছে না। উনি আর ভালো জায়গা পাওয়ার যোগ্য। কেন রাজ্যের টাকায় এনাকে বেতন দিয়ে অর্থ অপচয় করা হচ্ছে?”
রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে (Calcutta High Court) জানান, সংশ্লিষ্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নাকি আগেই জানিয়েছিলেন যে, ওই দিন সমস্ত কর্মী জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে থাকায় কাজ করার মতো লোকবল ছিল না। এই বক্তব্য শুনেই বিচারপতি বসাক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মিথ্যা বলছেন। আমাকে দু’জন রেজিস্ট্রার একই কথা বলছেন।”
রাজ্যকে কড়া বার্তা আদালতের (Calcutta High Court)
বিষয়টি নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নেয় আদালত (Calcutta High Court)। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “উনি এখানে থাকার যোগ্য নন। আপনারা যা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন, সেটা নিন।” একজন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের এমন আচরণ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি বসাক। তাঁর মন্তব্য, এই ধরনের মানসিকতার সঙ্গে কিছু করার নেই।

আরও পড়ুনঃ বাড়ি তৈরির আগে এবার গুনতে হবে ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’, রাজস্বে রেকর্ড কলকাতা পুরসভার, জানুন বিস্তারিত
প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে বাধ্য হয়ে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করতে হয় কলকাতা হাই কোর্টকে (Calcutta High Court)।













