বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার অনেক এলাকাতেই এখনও কাঁচা রাস্তা বা কমন প্যাসেজ রয়েছে, যেগুলোর কোনও নথিভুক্ত অস্তিত্ব নেই কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) খাতায়। কিন্তু এই সব রাস্তার ধারে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পুর-পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছিল পুরসভা। সেই সমস্যা মেটাতেই ২০২৪ সালের শেষের দিকে নতুন এক নিয়ম চালু করে কলকাতা পুরসভা। আর সেই নিয়মেই এবার রাজস্ব আয়ে বড় সাফল্য পেল পুরসভা।
‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ চালু করে বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)
শহরে যে কাঁচা রাস্তা ও কমন প্যাসেজ রয়েছে, যেগুলোর কোনও উল্লেখ নেই কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) রেকর্ডে, সেই ধরনের রাস্তার পাশে বাড়ি তৈরি করতে গেলে এতদিন নানা আইনি ও পরিকাঠামোগত সমস্যার মুখে পড়তে হত পুরসভাকে। সেই কারণেই ২০২৪ সালের শেষের দিকে ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ চালু করে কলকাতা পুরসভা। এই নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পরই রাজস্ব আদায়ে বড় সাফল্য এসেছে। গত অর্থবর্ষে যেখানে এই খাত থেকে মাত্র ৪৭ লক্ষ টাকা আয় হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৪০ গুণ রাজস্ব বৃদ্ধি।
কী এই ডেভেলপমেন্ট ফি?
পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কাঁচা রাস্তা বা কমন প্যাসেজের ধারে বাড়ি তৈরির জন্য বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় এককালীন ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ দিতে হচ্ছে। ফি ধার্য করা হয়েছে জমির পরিমাণ অনুযায়ী। ফি-এর হিসাবটি হল-
- এক কাঠা পর্যন্ত জমিতে: প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা
- এক কাঠা থেকে তিন কাঠা পর্যন্ত জমিতে: প্রতি বর্গফুটে ৮ টাকা
- তিন কাঠার বেশি জমিতে: প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা
এই নিয়ম এখন কলকাতা পুরসভার ১ থেকে ১৪৪, সব ওয়ার্ডেই কার্যকর।
কোন কোন এলাকায় নিয়মটি বেশি প্রযোজ্য?
পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নিয়ম মূলত কলকাতার সংযুক্ত এলাকাগুলিতে বেশি কার্যকর হবে। যেমন – যাদবপুর, কসবা, গরফা, মুকুন্দপুর, ই এম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, বেহালা, জোকা, ঠাকুরপুকুর, গড়িয়া ইত্যাদি। এই সব এলাকাতেই পুরসভার রেকর্ডে না থাকা রাস্তা বা কমন প্যাসেজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
কেন এই ফি চালু করা হল?
এক শীর্ষস্থানীয় পুরকর্তা জানান, বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় বড় জমি ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে বিক্রি করা হয়েছে। কোথাও পুকুরপাড়, কোথাও চাষের জমি বা ভরাট হয়ে যাওয়া জলাজমির উপর তৈরি হয়েছে রাস্তা। আবার অনেক জায়গায় দু’দিকের বাড়ির মাঝে তৈরি হয়েছে কমন প্যাসেজ।
এই সব এলাকায় পাকা রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল ও আলোর ব্যবস্থা করার জন্য পুরসভার(Kolkata Municipal Corporation) কাছে অনুরোধ আসে। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে দেখা যায়, সেই রাস্তা বা জায়গার কোনও নথিভুক্ত অস্তিত্বই নেই পুরনথিতে। ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যার সমাধান করতেই এককালীন ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ চালু করা হয়েছে বলে জানান ওই পুরকর্তা।

আরও পড়ুনঃ মালদার রাজনীতিতে ধাক্কা! তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর স্ত্রী অরুণা মার্ডি
কোথায় খরচ হচ্ছে এই টাকা?
পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, যে টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে আদায় করা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে খরচ করা হচ্ছে। পাকা রাস্তা তৈরি, নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল এবং আলো, এই সব পুর-পরিষেবা নিশ্চিত করতেই ব্যবহার করা হচ্ছে এই অর্থ। আগামী দিনে এই খাতে রাজস্ব আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী কলকাতা পুরসভা।













