নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, ভোটের কাজে থমকে নিয়োগ প্রক্রিয়া! হাই কোর্টের দ্বারস্থ SSC

Published on:

Published on:

Calcutta High Court SSC flags recruitment delay amid poll duty crisis
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এপ্রিলে নির্বাচন, আর সেই কারণেই বড় চাপে পড়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ শেষ করার নির্দেশ, অন্যদিকে কমিশনের অধিকাংশ কর্মী ভোটের কাজে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগেভাগেই হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন।

আদালতে (Calcutta High Court) কী বলল কমিশন?

বুধবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কমিশন আদালতে (Calcutta High Court) জানায়, সুপ্রিম কোর্ট তাদের নির্দেশ দিয়েছে আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে। যদিও শুরুতে মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছিল, পরে সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা মানা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

এসএসসি-র দাবি, তাদের মোট কর্মী সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটের কাজে ২৪ জনকে নিয়ে নিয়েছে। ফলে হাতে থাকা কর্মী সংখ্যা খুবই কমে গেছে। এই অবস্থায় যখন স্কুলে নিয়োগের ইন্টারভিউ চলছে, তখন কর্মীর অভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

কমিশনের আরও বক্তব্য, যদি নির্বাচন কমিশন ওই কর্মীদের ফেরত না দেয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ শেষ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি তারা এ-ও জানিয়েছে, এসএসসি একটি স্বশাসিত সংস্থা হওয়ায় এখানকার কর্মীদের এভাবে ভোটের কাজে নেওয়া উচিত নয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতও হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং শিক্ষাকর্মীদের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এর মাঝেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মীদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Calcutta High Court

আরও পড়ুনঃ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক, মমতার মন্তব্যের পাল্টা জবাবে অধীর বললেন…

এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সময়মতো পুরো নিয়োগ শেষ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় আগেভাগেই আদালতের (Calcutta High Court) হস্তক্ষেপ চাইল স্কুল সার্ভিস কমিশন। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।