ভুয়ো নথি দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা! আবেদনকারীকে নিয়ে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের, কোন মামলায়?

Published on:

Published on:

Calcutta High Court strict order in NEET 2026 candidate case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চলতি বছরের নিট পরীক্ষা (NEET 2026) ঘিরে জোর বিতর্ক হয়েছে। নিট, রি-নিট কাণ্ডের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এবার এই পরীক্ষা ঘিরে দায়ের হওয়া এক মামলাতেই কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতে ভুয়ো ও বিকৃত নথি জমা দেওয়ার অভিযোগে মামলা খারিজ করে মামলাকারী পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

কড়া অবস্থান কলকাতা হাইকোর্টের | (Calcutta High Court)

এদিনের শুনানি শেষে বিচারপতি সিনহা প্রাথমিকভাবে বলেন, ভুয়ো ও বিকৃত নথির মাধ্যমে হাইকোর্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ধরণের অভিযোগ হালকাভাবে দেখা যায় না। এরপরেই মামলা খারিজ করে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি তথা এনটিএকে নির্দেশ দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ আগস্টেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢুকলে কী করতে হবে? সরকারি নিয়ম জানুন

আজ মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিট ২০২৬ পরীক্ষায় তাঁর মক্কেল তিনটি আলাদা স্কোরকার্ড পেয়েছেন। তাঁর দাবি, একই পরীক্ষায় আলাদা আলাদা তিনটি স্কোরকার্ড পাওয়া স্বাভাবিক নয়। সেই কারণে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

পাল্টা সেই দাবি উড়িয়ে এনটিএর আইনজীবী হাইকোর্টে বলেন, আদালতে আবেদনকারীর জমা দেওয়া সকল নথি ভুয়ো ও বিকৃত। আদালতে যে স্কোরকার্ড পেশ করা হয়েছে, সেটি এই বছরের নিট পরীক্ষার নয়, বরং গত বছরের পরীক্ষার। একইসঙ্গে আদালতে পেশ করা ওএমআর শিটও ভুয়ো।

এনটিএর আইনজীবী দাবি করেন, ওএমআর শিট বিকৃত করা হয়েছে। সেটি প্রকৃত পরীক্ষার রেকর্ডের থেকে আলাদা। ফলে আবেদনকারীর তরফে আদালতে জমা দেওয়া নথিপত্রের মধ্যে একটিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে এজেন্সি।

Calcutta High Court

এনটিএর তরফে আরও জানানো হয়, এই ঘটনায় আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আগামী তিন বছর তাঁকে নিট পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার কথাও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। এনটিএর দাবি, পরীক্ষা সংক্রান্ত নথি বিকৃত করে কিংবা জাল করে আদালতে পেশ করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এটি পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করতে পারে।

দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পরেই মামলা খারিজ করে বড় নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আইন মহল এই নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। ভুয়ো কিংবা বিকৃত নথি ব্যবহার করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে সেটা যে বরদাস্ত করা হবে না, তা বিচারপতি সিনহার রায়েই পরিষ্কার।