বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে রাজ্যে ব্যাপক ধরপাকড় এবং ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বড় মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। তৃণমূলের করা মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ভোট শান্তিপূর্ণ করতে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারবে ঠিকই, কিন্তু অযথা কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার কথাও মাথায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
ট্রাবল মেকার তালিকা নিয়ে আদালতে (Calcutta High Court) তৃণমূল
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সম্ভাব্য গোলমালকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন, এই অভিযোগ তুলে আদালতে (Calcutta High Court) যায় তৃণমূল। শাসকদলের দাবি ছিল, প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে। ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয় এবং মানুষ যাতে ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের।
তবে আদালত (Calcutta High Court) এটাও বলেছে, আইন মেনে প্রয়োজন হলে কমিশন গ্রেপ্তার করতে পারবে। কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে বা কোনও কারণ ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। ব্যক্তিস্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছে আদালত। শুনানির সময় কমিশনের তরফে জানানো হয়, সম্ভাব্য ‘ট্রাবল মেকার’-দের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, তা পরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬০ ঘণ্টায় ভোটমুখী সাত জেলায় ২,৪৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪১ জন করে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর আগেও প্রথম দফার ভোটের আগে একই ধরনের মামলায় হাই কোর্ট বলেছিল, কাউকে ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও গ্রেফতার করা যাবে না। আদালত জানিয়েছিল, সতর্কতামূলক আটক করলেও আইন মেনে করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মধ্যেই তড়িঘড়ি শাহকে ফোন শুভেন্দুর, কী ঘটেছে?
ভোটের আগে কমিশনের একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজ্যের একাধিক আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।












