যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বড় জোর! দেশীয় সংস্থার হাতে DRDO-র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তুলে দেবে কেন্দ্র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র (Indian Defence System)। দেশীয় ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে এবার প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO-র তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি যোগ্য ভারতীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার এই উদ্যোগের কথা জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কেন্দ্রের বক্তব্য, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে আরও বেশি করে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতাও বাড়বে।

দেশের (India) প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

এই ব্যবস্থার আওতায় অবশ্য যে কোনও সংস্থা সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুযোগ পাবে না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে। প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সমস্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের পরেই প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি ও অন্যান্য দেশীয় সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়িয়ে একটি বড় উৎপাদনভিত্তি তৈরি করা। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতাও ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে (India)।

আরও পড়ুন: প্রতিবেশীর সই থেকে হিন্দু সার্টিফিকেট, নাগরিকত্বের আবেদনে বড় উদ্যোগ, চালু CAA ক্যাম্প

ভারত ইতিমধ্যেই দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে হাইপারসনিক প্রযুক্তিও অন্যতম। DRDO হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল এবং হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। গত ১৫ অগস্ট লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছিলেন। সরকারের দাবি, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন প্রযুক্তি আরও বেশি দেশীয় সংস্থার কাছে পৌঁছে দিলে সেই উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সরকারি পরিসংখ্যানেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই বৃদ্ধির ছবি উঠে এসেছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে যেখানে উৎপাদনের মূল্য ছিল প্রায় ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকা, সেখান থেকে তা বেড়ে বর্তমানে অনেকটাই উপরে পৌঁছেছে। ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চার গুণ হয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানিও ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই রফতানির পরিমাণ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি করা হচ্ছে।

Central govt has taken a big step towards self-reliance in defense production in India.

আরও পড়ুন: ২৫ থেকে ৩১ অগস্ট বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যের সব স্কুলে নির্দেশিকা জারি শিক্ষা দফতরের

এই পরিস্থিতিতে DRDO-র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি দেশীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশের (India) অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারেও আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রফতানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উৎপাদনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রের আশা, DRDO-র প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর প্রতিরক্ষা লক্ষ্য আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।