বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাংলায় এখনও শুরু হয়নি ১০০ দিনের কাজ (100 Days Work) প্রকল্প। এই বিষয়টিকেই এবার সংসদে হাতিয়ার করল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসকদলের সাংসদ মালা রায় লোকসভায় প্রশ্ন তোলেন ২০২৫ সালের ১ অগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিমে (MGNREGS) পশ্চিমবঙ্গে কতদিন কাজ হয়েছে? একইসঙ্গে তিনি জানতে চান, গত ছয় মাসে এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারকে কত টাকা দিয়েছে কেন্দ্র এবং টাকা না দিলে তার কারণ কী?
কেন্দ্রের লিখিত জবাব
তৃণমূল সাংসদের প্রশ্নের লিখিত জবাব দেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান। তিনি স্পষ্ট জানান, ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য একশো দিনের কাজের (100 Days Work) বরাদ্দ টাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ রাজ্য সরকার ঠিকমতো না মানার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও কাজ (100 Days Work) শুরু হয়নি
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পরেও কেন প্রকল্প চালু হয়নি সেই প্রশ্নের জবাবেও কেন্দ্র রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলেছে। প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৮ জুন কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ (100 Days Work) চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্প কার্যকর করতে রাজ্যকে কিছু বিশেষ শর্ত মানতে বলা হয়।
রাজ্যের অসহযোগিতার অভিযোগ
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বক্তব্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য শ্রম বাজেট প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। কিন্তু রাজ্যের তরফে এখনও সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে জমা পড়েনি। ফলে প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়নি। মালা রায়ের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্র কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই বাংলায় একশো দিনের কাজ থমকে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘কল্পতরু’ বাজেটেও গলল না বরফ! বেতনের দাবিতে স্বাস্থ্যভবন ঘিরে আশাকর্মীদের তাণ্ডব
উল্লেখ্য, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আর ১০০ দিনেরও কম সময় বাকি। ঠিক এই সময়ে ১০০ দিনের কাজ (100 Days Work) নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি ও তৃণমূল, দুই পক্ষই এই ইস্যুকে হাতিয়ার করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।













