ভবানীপুরে তৃণমূল-বিজেপির সংঘাত! অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রিপোর্ট চাইল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে ভবানীপুর কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। প্রচার শেষ হতেই তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে প্রচারে বাধা, বিরক্ত করা এবং আচরণবিধি ভাঙার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে। পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশনও। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।

ভবানীপুর ভোট বিতর্কে রিপোর্ট তলব মনজ আগরওয়াললের (CEO Manoj Agarwal)

রাজ্যের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজরে থাকা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম ভবানীপুর। এই কেন্দ্রেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শেষ হয়েছে প্রচারপর্ব। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলের তরফেই জোর প্রচার চলে। নিজেদের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসও দেখিয়েছেন দুই প্রধান প্রার্থী। তবে প্রচার শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পর্ব।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) জানিয়েছেন, ভবানীপুরে প্রচারের সময় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। কারও বিরুদ্ধে বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে এসেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সিইও (CEO Manoj Agarwal) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ভোটের আগে কোনও রকম উত্তেজনা বা অশান্তি যাতে না বাড়ে, তার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট করানো এবার কমিশনের কাছে বড় পরীক্ষা। কারণ এই কেন্দ্র ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই অভিযোগের ঘটনাগুলিকে কমিশন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন কমিশনের একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে একাধিক আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের জায়গায় নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের আপাতত ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজে রাখা যাবে না।

CEO on Mamata Banerjee

আরও পড়ুনঃ হাই কোর্টে খারিজ হয়েছিল তালিকা, তারপরও ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে অ্যাকশন! ফের আদালতে কল্যাণ

এই পদক্ষেপ নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে এমন ক্ষেত্রে রাজ্যের কাছ থেকে তিন জনের প্যানেল চাওয়া হত বলেও দাবি করেন তিনি। সেই প্রথা এবার মানা হয়নি বলেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
এখন নজর ভবানীপুরের ভোটে। কমিশনের (CEO Manoj Agarwal) রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেটাই দেখার।