বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেল চিন ও আমেরিকার পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা। গালওয়ান সংঘর্ষ ও অরুণাচল সীমান্ত ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহ পেরিয়ে ভারতকে ‘বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানাল বেজিং। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানান। দ্রুত বদলে যাওয়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই বক্তব্যকে ভারতের প্রতি চিনের কূটনৈতিক অবস্থানে নমনীয়তার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন কূটনীতি বিশ্লেষকেরা। একই দিনে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে আমেরিকাও।
৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day) ভারতকে শুভেচ্ছা জানাল চিন ও আমেরিকা:
শি জিনপিংয়ের বার্তায় ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। চিনা প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করা সম্ভব। এই বক্তব্যে সীমান্ত সমস্যা ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনের ইঙ্গিত থাকলেও, গালওয়ান সংঘর্ষের অভিজ্ঞতার পরে চিনের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে এখনও সাবধানী অবস্থানেই রয়েছে নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন: পেনশন গ্রাহকদের জন্য বড় আপডেট! অটল পেনশন যোজনায় মেয়াদ বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে কাদের উপর?
লাদাখ থেকে অরুণাচল— সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় চিনা আগ্রাসনের দাবি ভারতের নিরাপত্তা নীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। পূর্ব লাদাখের কয়েকটি অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে বেজিং, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। তাই আপাত শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিরক্ষাগত প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছে ভারত। গত চার বছরে লাদাখ ও সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। উন্নতমানের রাস্তা, সেতু ও টানেলের পাশাপাশি পূর্ব লাদাখের মুধি-নোওমা এলাকায় গড়ে উঠছে ভারতের সর্বোচ্চ বায়ুসেনা ঘাঁটি, যা আগামী অক্টোবরের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা।
এই বায়ুসেনা ঘাঁটি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার নীতিতেই এগোচ্ছে ভারত। এমন এক সময়ে, যখন অভিবাসন নীতি ও শুল্ক যুদ্ধের মতো ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে, তখন চিনের তরফে সহযোগিতার বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

আরও পড়ুন: ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে হাসিনা গর্জে উঠতেই শুরু নয়া বিতর্ক! ভারতের বিরুদ্ধে কী বার্তা দিল বাংলাদেশ?
অন্য দিকে, ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও ইন্দো-মার্কিন ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভারতের জনগণকে প্রজাতন্ত্র দিবসে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।” প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেন। সব মিলিয়ে সাধারণতন্ত্র দিবসে চিন ও আমেরিকার শুভেচ্ছাবার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।












