বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিনের (China) প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে বরাবরই নানা আলোচনা চলে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য তৈরির পাশাপাশি এবার সামরিক ক্ষেত্রেও তাদের এক নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। জিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত মরুভূমির রুওকিয়াং পরীক্ষাকেন্দ্রে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আর্লেই বার্ক’ (Arleigh Burke) শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা তৈরি করেছে চিন। সম্প্রতি রয়টার্স প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে এই কাঠামোর অস্তিত্ব সামনে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী নয়, বরং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি পরীক্ষামূলক অবকাঠামো।
আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের হুবহু নকল তৈরি করল চিন (China):
প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, মরুভূমির মধ্যে প্রায় ৬ মিটার চওড়া একটি রেললাইন তৈরি করা হয়েছে এবং তার ওপর বসানো হয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অনুকরণে নির্মিত কাঠামোটি। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই রেললাইনের মাধ্যমে কাঠামোটিকে চলন্ত অবস্থায় রেখে বাস্তব যুদ্ধজাহাজের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব। সেই অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু সঠিকভাবে শনাক্ত করতে এবং নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম কি না, তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে চিন সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি, তবুও সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই ধরনের অবকাঠামো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন: ৩,০০০ টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭৬০ কোটি! তারপরে যা করলেন মুর্শিদাবাদের গৃহবধূ…
মার্কিন ন্যাভাল ইনস্টিটিউট এবং সামরিক বিশ্লেষক সংস্থা অলসোর্স অ্যানালাইসিসের পর্যবেক্ষণও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, চিন দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজের অনুরূপ কাঠামো তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সেন্সর প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রেপ্লিকাটিতে শুধু বাইরের অবয়বই নয়, যুদ্ধজাহাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের অনুকরণে একাধিক সেন্সর ও পরীক্ষামূলক যন্ত্রও বসানো হয়েছে। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ, আঘাতের নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্ত্রের কার্যকারিতা আরও বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এই পরীক্ষাকেন্দ্রে আরও উন্নত সামরিক মহড়া চালানো হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগর, তাইওয়ান প্রণালী এবং আশপাশের জলসীমাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা সম্প্রতি দক্ষিণ চিন সাগর সংলগ্ন এলাকায় পরমাণুশক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ এবং আর্লেই বার্ক শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছিল। ঠিক সেই সময়েই চিনের পরীক্ষাকেন্দ্রে একই ধরনের যুদ্ধজাহাজের রেপ্লিকার ছবি প্রকাশ্যে আসায় অনেকেই দুই ঘটনার মধ্যে কৌশলগত যোগসূত্র খুঁজে দেখছেন। যদিও এই ব্যাখ্যা এখনও বিশ্লেষকদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: সপ্তাহজুড়ে দুপুরে হাওড়া ডিভিশনে ট্রেন পরিষেবায় বড় বদল! কোন কোন লোকাল বাতিল, জেনে নিন
জানা গিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি রকেট ফোর্স চিনের (China) জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের দাবি, ২০২০ সালে চিন প্রথমবার দক্ষিণ চিন সাগরে DF-21 জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া চালিয়েছিল। তারপর থেকে তারা এই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ্যে এলেও বেজিং এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে এই রেপ্লিকার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা অব্যাহত থাকলেও, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলের মতে এটি স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নৌ-সংঘাতের প্রস্তুতিতে চিন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আরও আধুনিক ও নির্ভুল করে তোলার দিকেই জোর দিচ্ছে।













