বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত ‘সই জাল’ মামলার তদন্ত ঘিরে মঙ্গলবার এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তদন্তের স্বার্থে সিআইডির একটি দল পৌঁছে যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এডিজি সিআইডি সুপ্রতিম সরকার (Supratim Sarkar)।
কেন উঠছে সিআইডি সুপ্রতিম সরকারের (Supratim Sarkar) নাম ?
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নজর ঘুরে যায় সুপ্রতিম সরকারের দিকে। কারণ, প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন যখন রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে, তখন অপসারিত হওয়া শীর্ষ আধিকারিকদের তালিকায় তাঁর নামও ছিল। সেই সময় তিনি কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।পরবর্তীতে তাঁকে সিআইডির শীর্ষপদে নিয়ে আসা হয়।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে বেশ কিছু রদবদল হলেও সুপ্রতিম সরকারকে তাঁর পদ থেকে সরানো হয়নি। আর সেই কারণেই আজ তাঁর নেতৃত্বাধীন সংস্থার কালীঘাট অভিযান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একসময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে সুপ্রতিম সরকারকে বেছে নেওয়ার পিছনেও রাজনৈতিক বার্তা ছিল বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলার আবেগ ও আঞ্চলিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিতেই তৎকালীন সরকার একজন বাঙালি অফিসারকে লালবাজারের সর্বোচ্চ পদে বসিয়েছিল। তাঁর আগে সৌমেন মিত্র ছিলেন কলকাতা পুলিশের শেষ বাঙালি কমিশনার।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই নয়, বাংলা ভাষায় তাঁর সাবলীলতা ও বাঙালি পরিচিতিকেও রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিল তৎকালীন শাসকদল। তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিয়েছে। একসময় যাঁদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হত, তাঁদের অনেকেই এখন প্রশাসনিক দায়িত্বের জায়গা থেকে নিজেদের কর্তব্য পালন করছেন। ফলে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার চেয়ে আইনি প্রক্রিয়াই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনার পর বার্ধক্য ভাতা নিয়ে আসছে ‘সুখবর’! কত টাকা মিলবে? বড় আপডেট সামনে
কালীঘাটে সিআইডির এই অভিযান তাই শুধুমাত্র একটি তদন্তমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। যে অফিসারকে একসময় তৃণমূলের অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে মনে করা হত, তাঁর নেতৃত্বাধীন সংস্থার হাত ধরেই আজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তদন্তের প্রয়োজনে পৌঁছে যাওয়া রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।













