বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভাবে আদালতে বক্তব্য রাখা কোনওভাবেই অস্বাভাবিক নয়, বরং তা সংবিধানের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রকাশ।
কী বললেন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি?
প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না।” তাঁর মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে (Supreme Court) এসে নিজের বক্তব্য জানান, তা কোনওভাবেই সাংবিধানিকভাবে অনুচিত হতে পারে না।
কী থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার করা একটি আবেদনের মাধ্যমে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ভাবে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এসে এসআইআর মামলায় সওয়াল করা “সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত”। তাঁদের বক্তব্য ছিল, SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকারভুক্ত বিষয়। ফলে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভাবে এই মামলায় অংশ নেওয়া ঠিক নয়।
গত বুধবার SIR সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি নিজের বক্তব্য পেশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ তোলেন, SIR প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হচ্ছে। কেন হঠাৎ তিন মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার তাড়া দেওয়া হচ্ছে সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও আদালতের (Supreme Court) নজরে আনেন তিনি।
সেই শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দেয়। সোমবার ফের মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে হিন্দু মহাসভার আবেদন নিয়েও আলোচনা হয়। আবেদনকারী পক্ষ দাবি করেছিল, “একটি রাজ্যের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক বিষয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল করা ঠিক নয়।” কিন্তু প্রধান বিচারপতি এই যুক্তি মানতে রাজি হননি। এদিন সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয় যে SIR প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বাধা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাজের যথেষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মহারাষ্ট্রে আবার মোদী-ম্যাজিক! জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত ভোটেও ঝড় তুলল মহাজুটি
সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে (Supreme Court) উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে কার্যত জল ঢেলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং সেখানে নিজের বক্তব্য রাখা কোনও জনপ্রতিনিধির মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।












