বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই নবান্নে অনেক কিছু বদলানোর ইঙ্গিত মিলছে। সোমবার বাজেট পেশের দিন সেই ছবি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এল। বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রীকে দই-চিনি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানানো থেকে বাজেটের পরে অর্থ দফতরের কর্মীদের হাতে মিষ্টি তুলে দেওয়া, সব মিলিয়ে নবান্নে নতুন কাজের সংস্কৃতি আনার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই ঘটনাগুলি এখন প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাজেটের দিন অর্থমন্ত্রীকে দই-চিনি খাওয়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)
কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে রাষ্ট্রপতি অর্থমন্ত্রীকে দই-চিনি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান, এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আগে কখনও এমনটা দেখা যায়নি। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনকাল হোক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের সরকার, এই ধরনের কোনও প্রথা ছিল না। কিন্তু এবার রাজ্য বাজেট পেশের আগে নবান্নে সেই ব্যতিক্রমী ছবিই দেখা গেল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে দই-চিনি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান।
তবে চমক এখানেই শেষ হয়নি। বাজেট পেশ শেষ হওয়ার পর বিকেলে বড় একটি মিষ্টির বাক্স নিয়ে অর্থ দফতরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেখানে কর্মী ও আধিকারিকদের নিজে হাতে মিষ্টি খাওয়ান। পাশাপাশি কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে গল্প-আড্ডাও করেন। অর্থ দফতরের এক প্রবীণ আধিকারিকের কথায়, চাকরি জীবনে এই প্রথম তিনি কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে বাজেটের পর এভাবে দফতরে এসে কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখলেন।
নবান্নের অন্দরে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, আগের সরকারের সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করা হত। তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষও ছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আলাদা বার্তা দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে কর্মী হোক বা শীর্ষ আধিকারিক, সবাইকে তিনি ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করেন বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নবান্নে এসে তিনি কর্মীদের বলেছিলেন, সবাইকে সম্মান দিয়েই কাজ করা হবে। তবে কাজে কোনও ভুল বা গাফিলতি হলে তার জবাবও দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমরাই এখন তৃণমূল’! নাম-প্রতীক বিতর্কের মাঝেই বড় দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের
বাজেটের দিন একের পর এক এই ঘটনাকে ঘিরে এখন নবান্নে জোর আলোচনা। অনেকের মতে, শুধু সরকার বদল নয়, নবান্নের কাজের পরিবেশ ও সংস্কৃতিতেও নতুন ছাপ ফেলতে চাইছে বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari)।













