বাংলা হান্ট ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। এবার সেই মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ জমা দিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’।সংগঠনের দাবি, তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য দেশের ভাবমূর্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
মমতার (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে অভিযোগ
বৃহস্পতিবার লালবাজারে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী দাবি করেন, ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মমতা যে মন্তব্য করেছিলেন, তা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে একই ইস্যুতে আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
প্রসঙ্গত,বিতর্কের সূত্রপাত ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া এক বক্তব্যকে ঘিরে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশের একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল, জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভোলিউশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার বলার অধিকার নেই।”
সেদিন তিনি আরও বলেন, “কিন্তু আমি যেটা বলছি, সেই পয়েন্টটা হল, তার পরে তারা মেঘালয় হয়ে বাংলায় চলে আসে। বাংলায় যখন চলে আসে, তখন আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে। এটা তাদের (এসটিএফ) ক্রেডিট। তার পরে হোম মিনিস্টার (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ) নিজে আমাকে ফোন করে বলছেন। এত দিন তো বলিনি। মুখ খুলিনি। এখন অত্যাচারের শেষ সীমায় গিয়েছে বলে… আমি নাম বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালবাসি।”
ধর্নামঞ্চে উপস্থিত কয়েকজন ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করার অনুরোধ জানালেও মমতা তা করতে অস্বীকার করেন। জবাবে তিনি বলেন, “না বলব না দেশের স্বার্থে। (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কী বললেন? ‘আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন, এই কথা যাতে বাইরে না-বলে। এটা দেশের জন্য।’ কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার বদলালেও মনে রাখবেন আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয় কথা ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার, সত্য ভান্ডার। সম্পদের ভয়ে কর্মীদের ভাসিয়ে দল ছেড়ে যাব না।”
উল্লেখ্য, বক্তব্যে তিনি কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তাঁর মন্তব্য বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরেই করা। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন হাদি। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন : সুখবর মধ্যবিত্তদের জন্য, ফের কমল সোনার দাম! আজ ১ ভরির দর কত জানেন
এই মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল। ধৃত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে চলতি বছরের ৭ মার্চ গভীর রাতে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এদিকে মমতার বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর এখন দেখার, বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী সংস্থা বা পুলিশ প্রশাসন ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়।













