বাংলাহান্ট ডেস্ক : বোর্ডের পরীক্ষায় এবার থেকে কম্পিউটার পেতে চলেছে বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়ারা। একটি মামলার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি আদালত এমনই নির্দেশ দিয়েছে সিবিএসই (CBSE) বোর্ডকে। জানা যাচ্ছে, গুরুগ্রামের দশম শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়া আবেদন করেছিলেন, বোর্ড পরীক্ষায় কম্পিউটার এবং একটি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করার জন্য। দুটি বিরল রোগের জন্য ৪০ শতাংশের বেশি লার্নিং ডিজেবিলিটি রয়েছে ওই পড়ুয়ার। দিল্লি এইমসের ছাড়পত্র থাকলেও শুধুমাত্র ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দেয় সিবিএসই বোর্ড।
বিশেষ ভাবে সক্ষমদের পড়ুয়াদের নিয়ে কড়া নির্দেশ বোর্ডকে (CBSE)
এরপরেই বিশেষ ভাবে সক্ষমদের প্রধান কমিশনারের আদালতের দ্বারস্থ হন ওই পড়ুয়া। সেখানে সিবিএসইর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনে ওই পড়ুয়া জানান, সিবিএসইর এই যুক্তি ২০১৮ সালের সরকারি গাইডলাইনে পরিপন্থী। সেখানে বলা হয়েছিল, বিশেষ ভাবে সক্ষমরা পরীক্ষার মাধ্যম বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এরপরেই আদালত বোর্ডকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ওই পড়ুয়াকে পরীক্ষার সময় ক্যালকুলেটর, কম্পিউটার সহ সব সুবিধাই যেন দেওয়া হয়। ওই পড়ুয়ার মেডিকেল সার্টিফিকেটে যেসব সুযোগ সুবিধা উল্লেখ করা রয়েছে তা কেন্দ্রীয় আইন এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে হবে বোর্ডকে।

কী জানাল আদালত: সুপ্রিম কোর্টের ২০২১ এর একটি মামলার রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই রায়ে বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য যুক্তিগত বাসস্থানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক দেশ জুড়ে বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য একটি অভিন্ন গাইডলাইন তৈরি করে।
আরও পড়ুন : টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অবাক সৌরভ! স্পষ্ট জানালেন…
কী রয়েছে নির্দেশিকায়: ওই নির্দেশিকাতে উল্লেখ রয়েছে, বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়ারা (CBSE) পরীক্ষার মাধ্যমে হিসেবে ব্রেইল, কম্পিউটার বা উত্তর রেকর্ড করার পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। এমনকি টকিং ক্যালকুলেটর, জ্যামিতি কিট বা অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া রয়েছে। সিবিএসই বোর্ড এই দুই ধারাকেই লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন: বাংলায় নির্বাচনের আগে RSS-BJP-র বড় পদক্ষেপ! দিল্লির ‘মিনি বেঙ্গল’-এ সম্পন্ন হল হিন্দু সম্মেলন
প্রসঙ্গত, জানা যাচ্ছে গত চার বছর ধরে এই দুই সুবিধাই পড়ুয়ার স্কুল তাকে দিয়ে আসছিল। কিন্তু বোর্ডের পরীক্ষার দশ দিন আগেই বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের জেরে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয় ওই পড়ুয়া।












