বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। এই আবহেই দিল্লির (New Delhi) বাঙালিদের মন জয় করতে তৎপর RSS এবং BJP। দিল্লিতে ‘মিনি বেঙ্গল’ হিসেবে বিবেচিত চিত্তরঞ্জন পার্কে এই প্রথমবার সম্পন্ন হল হিন্দু সম্মেলন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বাঁশরী স্বরাজ থেকে শুরু করে বিধায়িকা শিখা রাই। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একাধিক নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে সামনে রেখে সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয়।
দিল্লির (New Delhi) চিত্তরঞ্জন পার্কে সম্পন্ন হল হিন্দু সম্মেলন:
এছাড়াও, তুলসী গাছ ও বর্ণপরিচয় বিতরণের পাশাপাশি আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। রবিবারের সকালে দিল্লিতে প্রচুর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপস্থিতিতে সমগ্র অনুষ্ঠানটি বৃহৎ আকার ধারণ করে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, বিহার নির্বাচনের আগেও দিল্লি এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বিহারে বসবাসকারী মানুষদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছিল বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ ।

সেই রেশ বজায় রেখেই বাংলায় নির্বাচনের আগে বাঙালিদের কাছে পৌঁছতে চাইছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। এই অনুষ্ঠানে বন্দমাতরমের শ্রাদ্ধশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন সাংসদ বাঁশরী স্বরাজ। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রয়াত বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল সেই বিষয়টিও উপস্থাপিত করেন।
এছাড়াও, বঙ্গসংস্কৃতির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ সেই বিষয়েও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন সাংসদ। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছিল হিন্দু সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে। সেখানে একদিকে যেমন ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পুস্তক বিপণি, ঠিক তার পাশাপাশি ইন্ডিয়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয় তুলসী গাছ এবং বর্ণপরিচয়।
আরও পড়ুন: রাশিয়া নয়, এবার ভারতের হাতিয়ার হতে চলেছে এই দেশের তেল! বড় পদক্ষেপ মুকেশ আম্বানির
এই অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা সুজাতা দাস জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে হিন্দু বাঙালিদের ওপরে অত্যাচার চলছে এবং সংখ্যালঘু তোষণ চলছে, তা দেশ এবং সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর। আমরা দিল্লিতে বসবাস করলেও অনেকেরই আত্মীয়-স্বজন বঙ্গে রয়েছেন। অনেকেই ভোট দিতে যান পশ্চিমবঙ্গে। আমরা তাঁদের জাগ্রত করার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতিতে নয়া ইতিহাস! সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার
এদিকে, ওই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা আনন্দ মুখার্জী জানান, ‘অনুপ্রবেশ সমস্যা এখন শুধু আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, বরং সারা দেশের জন্য বড় বিপদ। এই সমস্যা থেকে সাধারণ বঙ্গবাসীকে বাঁচাতে পারে একমাত্র গভীর দেশপ্রেম এবং জাতীয়তা বোধ।সেই কারণেই এই হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন।’ সমগ্র অনুষ্ঠানটির সুচারু সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত শিল্পী ও সঞ্চালক-সুবক্তা প্রদীপ গাঙ্গুলি। উল্লেখ্য যে, দিল্লিতে যেহেতু দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষাভাষীর সম্প্রদায়িক হিসেবে বাঙালিরা রয়েছেন, তাই এবার বঙ্গে নির্বাচনের আগে তাঁদেরকে নিজেদের সঙ্গে সামিল করার চেষ্টা শুরু করেছে RSS-এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।












