বাংলা হান্ট ডেস্ক: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ আবারও বিশ্ব তেল বাজারে নিজেদের পরিকল্পনার পরিবর্তন এনেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, দেশের বৃহত্তম ব্যবসায়িক সংস্থার প্রধান মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) প্রায় দেড় বছর পর ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকেছেন। ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল ক্রয় পুনরায় শুরু করেছে। যেখানে একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গিয়েছে যে, কোম্পানিটি ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি বিশাল জাহাজ কিনেছে। এই খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমছে এবং আমেরিকার সঙ্গে সামগ্রিক বাণিজ্য সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে। এমতবস্থায়, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য একটি হাতিয়ার কাজ করবে।
বড় পদক্ষেপ আম্বানির (Mukesh Ambani):
দেড় বছরের নির্বাসন শেষ: জানিয়ে রাখি যে, রিলায়েন্স গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। মূলত, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে। রিলায়েন্স আবারও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই আবহে, ২০ লক্ষ ব্যারেল তেলের এই বিশাল অর্ডারকে কেবল একটি সাধারণ ক্রয় হিসাবে দেখা হচ্ছে না। বরং, এটি ভারতের কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে ভারত তার তেলের চাহিদা মেটাতে কেবল একটি বা ২ টি দেশের ওপর নির্ভর করতে চায় না।

রাশিয়া থেকে কম তেল কেনা হচ্ছে: সাম্প্রতিক সময়ে ভারত তার জ্বালানি চাহিদার জন্য রাশিয়ার তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই পরিসংখ্যান প্রতিদিন মাত্র ১১ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, রাশিয়ান তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থপ্রদান সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কারণে, ভারতকে নতুন বিকল্প খুঁজতে হয়েছে। এদিকে, আমেরিকা সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে হস্তক্ষেপ করেছে এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। এই নতুন মার্কিন নীতি ভেনেজুয়েলার তেলকে আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। যার ফলে রিলায়েন্সের মতো ভারতীয় কোম্পানিগুলি এর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতিতে নয়া ইতিহাস! সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার
বাণিজ্য চুক্তি: জানিয়ে রাখি যে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিও এই সমীকরণের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই চুক্তি ভারতীয় রফতানির ওপর কর হ্রাস করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বাণিজ্য চুক্তিকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ বা হ্রাস করার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। যদিও, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করেনি। তবে, বাজারের সংকেতগুলি ইঙ্গিত দেয় যে রাশিয়া থেকে আমদানি হ্রাস এবং ভেনেজুয়েলা থেকে ক্রয় পুনরায় শুরু করা কোনওভাবে এই কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত।
আরও পড়ুন: বড় ঘোষণা ICC-র! ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশী সামিল হলেন এই বিশেষ টিমে
জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ: উল্লেখ্য যে, ভেনেজুয়েলা ভারতের জন্য কোনও নতুন বাজার নয়। ২০১৯ সালের তথ্যের ভিত্তিতে, ভেনেজুয়েলা তার মোট তেল রফতানির প্রায় ২৫ শতাংশ ভারতে পাঠিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সময়কালে রিলায়েন্স সেখান থেকে তেল আমদানিও করেছিল। এখন যেহেতু রাশিয়ার তেল আমদানি হ্রাস পাচ্ছে, তাই ভারত ফের ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করে তেল কিনছে।












