বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় রেলের (Indian Railways) এসি কামরায় যাত্রীদের আরামদায়ক যাত্রার জন্য যে শয্যাসামগ্রী দেওয়া হয়, তা এখন উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যের অধিকার আইন (RTI)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ট্রেনের এসি কামরা থেকে প্রায় ১ কোটি ২৭ লক্ষ শয্যাসামগ্রী উধাও হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিপুল পরিমাণ বালিশ, চাদর, কম্বল, তোয়ালে এবং বালিশের ওয়াড় চুরির ঘটনায় শুধু রেল নয়, সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। যাত্রী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এমন একটি বিষয় নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে।
৪ বছরে চুরি ট্রেনে ১.২৭ কোটি শয্যাসামগ্রী, চমকে দেবে ভারতীয় রেলের (Indian Railways) ক্ষতির পরিমাণ:
ভারতীয় রেলের এসি কামরায় ভ্রমণকারী প্রত্যেক যাত্রীকে একটি বালিশ, দু’টি চাদর, একটি কম্বল এবং দু’টি তোয়ালে দেওয়া হয়। প্রতিদিন রাতের ট্রেনে প্রায় আট লক্ষ যাত্রী এই পরিষেবা ব্যবহার করেন। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় সংক্রমণের আশঙ্কায় এই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে তা আবার সম্পূর্ণভাবে চালু করা হয়। সেই সময় থেকেই শয্যাসামগ্রী চুরির পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই ধরনের চুরির ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে হাত বা মুখ মোছার তোয়ালে, যার সংখ্যা চার বছরে ৪৬.৫৪ লক্ষ। এরপর রয়েছে ৪১.১৩ লক্ষ চাদর, ২৩.৫৯ লক্ষ বালিশের ওয়াড়, ১২.৯৫ লক্ষ কম্বল এবং ২.৭৬ লক্ষ বালিশ। এই পরিসংখ্যান রেলের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আর নয় একাধিপত্য! চিনকে ঝটকা দিয়ে চুম্বক ছাড়াই EV-র মোটর তৈরি করল ভারতের এই সংস্থা
এই তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন রেল জোন ও ডিভিশনে আরটিআই-এর মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়েছিল। মোট ১৬টি রেল জোনের ৫৪টি ডিভিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শয্যাসামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের বিকানের, জোধপুর ও জয়পুর ডিভিশনে। এছাড়াও রাঁচী, দিল্লি, মুম্বই, গুজরাতের আহমেদাবাদ, বিহারের শোনপুর ও দানাপুর এবং ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুর ডিভিশনেও চুরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এত বড় পরিসরে একই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকায় রেল প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কোথায় কোথায় নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার, তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।
রেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ শয্যাসামগ্রী চুরির ফলে গত চার বছরে সরবরাহকারী সংস্থাগুলির প্রায় ১০৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল, বহু ক্ষেত্রে এই ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয়েছে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের। তাঁদের বেতন থেকেই ক্ষতিপূরণের অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, কর্মীদের উপরেও এর আর্থিক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা, হিসাবরক্ষণ এবং বিতরণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: যত সময়, তত খরচ! অভিনব ‘টাইম ক্যাফে’-র সূচনা করে তাক লাগালেন বন্দিতা, হচ্ছে বার্ষিক ২ কোটির আয়
রেল মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ধরনের চুরি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রেলের ধারণা, কিছু যাত্রী যাত্রা শেষে শয্যাসামগ্রী নিজেদের ব্যাগে ভরে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। তাই রেলকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্টেশন ও ট্রেনে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, শয্যাসামগ্রী বিতরণ ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও জোর দিচ্ছে রেল। যাত্রী পরিষেবার মান বজায় রাখতে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় রুখতে এই পদক্ষেপগুলি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের (Indian Railways)।













