বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারের আবেদন সংক্রান্ত ডিএ মামলার (Dearness Allowance) শুনানি শেষবার পিছিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। গত ১৫ এপ্রিল মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আদালতে রাজ্য জানায়, ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ ৬০০০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে রাজ্য। বাকি ডিএ মেটাতে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে কিছুটা সময় চাইলে তাতে সায় দেয় শীর্ষ আদালত।
ভোটের ফলপ্রকাশের পর ডিএ মামলার শুনানি | Dearness Allowance
নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজ্যের জমা করা রিপোর্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে মামলার সঙ্গে সংযুক্ত পক্ষেরা হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে পারবেন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গিয়েছে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি। পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৬ মে। ভোটপর্ব শেষ বাংলায়। ফলপ্রকাশ ৪ মে। সুপ্রিম কোর্টে ফের ডিএ মামলা উঠবে একেবারে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর। অর্থাৎ এর পরের শুনানি বিশেষ উল্লেখযোগ্য হতে চলেছে।
গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য জানায় ডিএ ইস্যুতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি সমস্ত সুপারিশ মানবে রাজ্য। রাজ্য সরকার আদালতে জানায়, তাঁদের কাছে যে পরিমাণ কর্মীদের তালিকা ও হিসেব ছিল তাঁদের বকেয়া টাকা ইতিমধ্যেই মেটানো হয়েছে। বকেয়া বাবদ খরচ হয়েছে ৬০০০ কোটি টাকা। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান কেন্দ্রের গঠন করা কমিটির সুপারিশ মতোই রাজ্য কাজ করছে।
রাজ্যের আইনজীবী সওয়াল করেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ডিএ-র একটি অংশ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। যেহেতু চলতি মাসেই বিধানসভা ভোট তাই কমিটির দ্বারা নির্ধারিত প্রথম কিস্তির অর্থ দেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট-সহ হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আদালতে আইনজীবী বলেন, কেন্দ্রের কমিটি পরবর্তী রিপোর্ট এপ্রিলের শেষভাগে পেশ করবে। সেই সময় পর্যন্ত ডিএ মামলা মুলতুবি করা হোক। এদিন রাজ্যের আবেদনে সাড়া দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারী পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে বলেছিল চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে, ৩১ মার্চের মধ্যে।
ডিএ-র প্রথম কিস্তি ৬ মার্চের মধ্যে দিতে হবে বলে নির্দেশ ছিল। একইসাথে গোটা প্রক্রিয়াটি কতটা কার্যকর হল সেই নিয়ে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সুপ্রিম নির্দেশ ছিল, ২৫ শতাংশ দেওয়ার পরেও বাকি ৭৫% বকেয়া ডিএ-র কীভাবে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ওই চার সদস্যের কমিটি।
আরও পড়ুন: একসময় জোটেনি খাবার! আজ ব্যবসায় ২১৬ কোটির টার্নওভার, চমকে দেবে সানি-হানির কাহিনি
নির্দেশ ছিল ওই ৭৫ শতাংশেরও প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। সেই সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এই সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। আদালতে রাজ্য সরকার আবেদনে জানায়, আর্থিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে রাজ্য। বকেয়া ডিএ-র অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি। এদিকে কেন্দ্রের কাছ থেকে ঋণের অনুমোদন মেলেনি এখনও। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ভোটের ক্ষেত্রে প্রচুর খরচ হবে। সেই খরচ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

রাজ্যের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর তথ্য এখনও ডিজিটাল রেকর্ড করা হয়নি। সব কর্মীর সার্ভিস বুক স্ক্যান ও আপলোডের বিষয় সময়সাপেক্ষ। হাজার হাজার পেনশনভোগীডের তথ্যও আলাদা ভাবে মেলাতে হবে। কলকাতা এবং জেলার পেনশন সংক্রান্ত তথ্য মেলাতে হবে। সরকার জানায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতে আলাদা পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। তবে পোর্টাল প্রস্তুতকারী সংস্থা জানিয়েছে পোর্টাল পুরো প্রস্তুত করতে সময় লেগে যাবে। এবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে তা কোন মোড় নেয় সেটাই দেখার।












